দ্য ওয়াল ব্যুরো: মুর্শিদাবাদের দৌলতাবাদে বাড়িতে ঢুকে ঘুমন্ত তরুণীকে গলা কেটে খুন করার অভিযোগে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃত যুবকের নাম ওয়াসিম শেখ। আজ সোমবার তাকে মুর্শিদাবাদ জেলা আদালতে তোলা হবে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
নিহতের নাম মুর্শিদা খাতুন রোজা। তাঁর বয়স ১৯ বছর। ওই তরুণী বহরমপুর কলেজের প্রথম বর্ষের পড়ুয়া ছিলেন বলে তাঁর বাড়ির লোকজন জানিয়েছেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাতে বাবা-মায়ের সঙ্গেই ঘুমোচ্ছিলেন মুর্শিদা। গরম থাকায় একটি জানলা খোলা ছিল। জানলাটিতে একাধিক রড খোলা ছিল। বাকি রড আলগা ছিল। সম্ভবত সেটি সরিয়েই কোনও ভাবে ঘরে নিঃশব্দে অস্ত্র নিয়ে ঢুকে পড়ে ওই যুবক। তখন সকলেই গভীর ভাবে ঘুমোচ্ছিলেন বলে কেউ কিছু বুঝতে পারেননি। ঘরে ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে সে মুর্শিদার গলায় কোপ মারে। তাঁর আর্তনাদে ঘুম ভেঙে যায় তাঁর বাবা-মায়ের।
অভিযোগ, ধারালো অস্ত্র উঁচিয়েই জানলা দিয়ে লাফ মেরে পালায় ওই আততায়ী। রক্তাক্ত অবস্থায় তখনই ছাত্রীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তবে তার আগে পথেই তাঁর মৃত্যু হয়। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। তাঁর দেহ রবিবার ময়নাতদন্ত হয় মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। পরে পরিবারের হাতে দেহ তুলে দেওয়া হয়। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু করে দৌলতাবাদ থানার পুলিশ।
প্রাথমিক তদন্তের পরে এবং পরিবারের লোকের অভিযোগের ভিত্তিতে ওয়াসিম শেখ নামে এক সন্দেহভাজন যুবককে রবিবার সকালে আটক করে পুলিস। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তারও বাড়ি ওই গ্রামেই। পুরনো প্রণয়ঘটিত কোনও কারণ এর নেপথ্যে রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে দৌলতাবাদ থানার ওসি ময়ূরী ঘোষ জানান।
জিজ্ঞাসাবাদের পরে রাতে ওই যুবককে পুলিশ গ্রেফতার করে। সে পুলিশের কাছে অপরাধের কথা স্বীকার করেছে কিনা সে ব্যাপারে এখনও কিছু জানা যায়নি। ধৃতকে আজ সোমবার আদালতে তোলা হবে। যে অস্ত্র দিয়ে ওই ছাত্রীকে হত্যা করা হয়েছে সেই অস্ত্রটি এখনও উদ্ধার হয়নি।
ইতিমধ্যেই ছাত্রীটির পরিবার অভিযোগ তুলেছে ওই যুবকই তাঁদের মেয়েকে হত্যা করেছে। তাঁদের কথায়, ওই যুবক দীর্ঘদিন ধরে মুর্শিদাকে উত্যক্ত করত। বিয়ের প্রস্তাবও দিয়েছিল তাঁকে। মুর্শিদা তাতে রাজি না হওয়ায় এই ঘটনা।