দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিলেত ফেরত কলকাতার এক বাঙালি যুবকের শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ও তাঁর থেকে তাঁর পরিবারের তিন সদস্যের শরীরে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনাই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছে, এ ব্যাপারে কতটা সাবধানতা জরুরি। চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞরাও বলছেন, আমরা এখন সংক্রমণের তৃতীয় স্টেজে প্রবেশের মুখে। যখন সামাজিক মেলামেশার মাধ্যমে সংক্রমণ অতি দ্রুত হারে ছড়ানোর আশঙ্কা প্রবল।
এই পরিস্থিতিতে ভিন রাজ্য থেকে আসা বাঙালিদের উপর চব্বিশ ঘন্টা নজর রাখতে অভূতপূর্ব ম্যান মার্কিংয়ের ব্যবস্থা করেছে নবান্ন। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের কর্তাদের পরামর্শক্রমেই রাজ্য সরকার এই পদক্ষেপ করেছে বলে জানা গিয়েছে।
তা কীরকম?
শনিবার রাত থেকে আজ সোমবার সকাল পর্যন্ত ভিন রাজ্য থেকে আটটি দূরপাল্লার স্পেশাল ট্রেন ঢুকেছে বাংলায়। তামিলনাড়ু, কেরল, মহারাষ্ট্র সহ ভিন রাজ্যে যে পরিযায়ী শ্রমিকরা কাজ করেন মূলত তাঁদের ঘরে ফেরানোর ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে তার মাধ্যমে। কিন্তু তাঁদের ঘরে ফেরালেও প্রশাসন সতর্ক। প্রথমত, ওই ট্রেনগুলি বাংলায় প্রবেশের পর শিয়ালদহ ও হাওড়া সহ রাজ্যের যে স্টেশনগুলিতে থেমেছে সেখানে সমস্ত যাত্রীকে যথাসম্ভব স্ক্যানিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। জেলাশাসক ও স্থানীয় মহকুমা শাসকের তত্ত্বাবধানে তা চলছে। জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক স্ক্যানিংয়ের বিষয়টি দেখছেন। কারও শরীরে কোনওরকম সন্দেহজনক উপসর্গ দেখা দিলে তো কথাই নেই, তাঁকে কোয়ারেন্টাইনে বা আইসোলেশনে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। সেই সঙ্গে স্টেশন থেকে কে কোন জেলায় যাচ্ছেন, তাঁর বাড়ির ঠিকানা সবই জেনে নিচ্ছে প্রশাসন। তার পর তাঁকে আপাতত ১৪ দিন গৃহবন্দি থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
এখন প্রশ্ন হল, তাঁরা কি সত্যিই গৃহবন্দি থাকছে?
নবান্ন সূত্রে বলা হচ্ছে, তা নিশ্চিত করতে কার্যত ম্যান মার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যাঁরা ভিন রাজ্য থেকে ফিরেছেন তাঁদের উপর নজর রাখার জন্য স্থানীয় প্রশাসন অভূতপূর্ব ব্যবস্থা নিয়েছে। প্রতিটি ব্যক্তি বা পরিবারের উপর তিন জন নজর রাখবেন—স্থানীয় একজন ভিলেজ রিসোর্স পার্সন তথা ভিআরপি, একজন আশা কর্মী এবং একজন সিভিক ভলেন্টিয়ার।
যাঁরা ভিন রাজ্য থেকে এসেছেন তাঁদের শরীরে বা তাঁদের পরিবারের কারও শরীরে কোনও সন্দেহজনক উপসর্গ দেখা যাচ্ছে কিনা সে ব্যাপারে প্রতিদিন তিন বেলা খোঁজ রাখবেন ভিলেজ রিসোর্স পার্সন ও আশা কর্মী। বাইরের রাজ্য থেকে এসে প্রকৃতই গৃহবন্দি রয়েছেন কিনা, নাকি বাইরে বেরোচ্ছেন সে ব্যাপারে নজর রাখবেন এক জন সিভিক ভলেন্টিয়ার।
স্বাস্থ্য দফতরের এক কর্তা বলেন, অনেকেই মনে করছেন পরিযায়ী শ্রমিকদের এখনই ফেরার দরকার ছিল না। যে যে রাজ্যে রয়েছেন সেখানেই থাকতে পারতেন। কিন্তু সমস্যা হল, তাঁরা যেখানে কাজ করেন ভাইরাস সংক্রমণের কারণে সে সব জায়গায় হয় আতঙ্ক তৈরি হয়েছে বা কাজ বন্ধ রয়েছে। সে কারণেই তাঁরা ফিরেছেন। তবে তাঁদের মাধ্যমে কোনওভাবে যাতে সংক্রমণ না ছড়ায় সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে প্রশাসনকেও। সেই ব্যবস্থাই কায়েম হয়েছে।