দ্য ওয়াল ব্যুরো, বীরভূম: লোকপুর থানায় তাঁর নামে চুরির অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। তারপরেই মঙ্গলবার সকালে এক যুবকের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হল বীরভূমের লোকপুর থানার অন্তর্গত রুপুসপুর গ্রাম থেকে। তাঁর কাছ থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করা হয়েছে। তাতে উল্লেখ রয়েছে, চুরির অপবাদ সহ্য করতে না পেরেই তিনি আত্মঘাতী হয়েছেন। মৃতের নাম সৌভিক গড়াই। তাঁর বয়স ২১ বছর।
সৌভিকের পরিবার সূত্রে জানা গেছে তিনি গুজরাটে একটি ওষুধের কোম্পানিতে কাজ করতেন। দেশজুড়ে লকডাউন শুরু হওয়ার পরে তিনি বাড়িতে ফিরে আসেন। দু’টি চুরির ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে সম্প্রতি অভিযোগ দায়ের হয় লোকপুর থানায়। কিন্তু ওই যুবকের পরিবারের দাবি তিনি চুরি করেননি। তাঁকে অপবাদ দেওয়া হয়েছে।
সৌভিকের কাছ থেকে থেকে যে সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়েছে তাতে তিনি লিখেছেন, “আমার মৃত্যুর জন্য দায়ী শিবু রায় এবং সজল রায়। আমি চুরি করিনি, এই দুজনের শাস্তি চাই।”
জানা গেছে সৌভিক গুজরাটে একটি ওষুধের কোম্পানিতে কাজ করতেন। তিনি কাজ হারিয়ে গ্রামে ফেরার পরে লোকপুরে একটি মিষ্টির দোকানে কাজ করতে শুরু করেন। সেই মিষ্টির দোকানে সোমবার টাকার গরমিল ধরা পড়ে। সেই গরমিলের পরে তাঁর বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ তোলেন ওই দোকানের মালিক। পরে চুরির অভিযোগও দায়ের করা হয় থানায়। ইতিমধ্যে সৌভিকের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেন প্রতিবেশী শিবু রায়ও। অভিযোগে তিনি জানান বেশ কিছু দিন ধরেই তাঁর বাড়ি থেকে নানা জিনিস চুরি যাচ্ছে। এ ব্যাপারে তিনি সৌভিককে সন্দেহ করেন। সোমবার জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য সৌভিককে বাড়ি তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। পরে ছেড়েও দেয়। তারপরে মঙ্গলবার সকালে নিজের বাড়ি থেকেই আত্মঘাতী সৌভিকের দেহ উদ্ধার হয়।
এর পরেই গ্রামবাসীরা উত্তেজিত হয়ে শিবুর বাড়িতে চড়াও হন। বাড়ি ভাঙচুরের পাশাপাশি ইটবৃষ্টি শুরু হয়। পুলিশ এসে শিবুকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। যদিও তার আগেই গ্রামের লোকজন তাঁকে হেনস্থা করেন বলে অভিযোগ। শিবু রায় বলেছেন, “নির্দিষ্ট কারণ আছে বলেই অভিযোগ করেছি। এখন আমাকে দায়ী করে লোকে আমার উপরে চড়াও হচ্ছে।”
উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করে পুলিশ। জনরোষ থেকে বাঁচাতে শিবু রায়ের পাশাপাশি মিষ্টির দোকানের মালিককেও পুলিশ আটক করেছে। এখনও এই ঘটনায় পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করেনি।