দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় বুধবার সকালে উদয়নারায়ণপুর থানার গড়ভবানীপুরের পাঁতিয়াগোড়ি গ্রামে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথা কেটে এক কিশোরীকে খুন করার অভিযোগ উঠল প্রতিবেশী যুবকের বিরুদ্ধে। মৃতার নাম তৃষা বাগ (১৭)। তিনি গড়ভবানীপুর রামপ্রসন্ন উচ্চ বিদ্যালয়ের একাদশ শ্রেণীতে পড়তেন। অভিযুক্ত যুবকের নাম আনন্দ বাগ ওরফে অজিত। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত পলাতক। উদয়নারায়ণপুর থানার পুলিশ মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তে পাঠিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আনন্দ সর্ম্পকে তৃষার কাকা। তাঁরা একই গ্রামের বাসিন্দা। বছর খানেকের মধ্যে তৃষাকে একাধিকবার প্রেমের প্রস্তাব দেয় আনন্দ যদিও তৃষা তাতে সাড়া দেননি। তাই আনন্দ তাঁকে নানা ভাবে উত্ত্যক্ত করতে শুরু করে। বিষয়টি তৃষা তাঁর বাবাকে জানালে তিনি আনন্দকে ডেকে মেয়েকে বিরক্ত না করার কথা বলেন। অভিযোগ তিনি আনন্দকে সতর্ক করে দেন। সূত্রের খবর, এনিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে বিবাদ বাধে যদিও এরপরেও আনন্দ তৃষাকে উত্ত্যক্ত করা বন্ধ করেনি। মাস ছয়েক আগে গ্রামে সালিশি সভা বসিয়ে আনন্দকে সাবধান করা হয়। তখন আনন্দ সকলের সামনে নিজের ভুলের স্বীকার করে ক্ষমা চেয়ে নেয়। তৃষাকে সে আর বিরক্ত না করবে না বলে অঙ্গীকার করে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, বুধবার সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ তৃষা স্থানীয় ঘোষপাড়ায় প্রাইভেট টিউশানি শেষে সাইকেলে চেপে বাড়ি ফিরছিলেন। তখন ফাঁকা জায়গায় তৃষার পথ আটকে দাঁড়ায় আনন্দ। এরপরে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। আচমকা আনন্দ একটি ধারালো কাটারি দিয়ে তৃষার গলায় কোপ মেরে শরীর থেকে মাথা আলাদা করে দেয়। তারপরে বাইকে চেপে গ্রাম ছেড়ে পালায়।
তৃষাকে খুনের কথা জানাজানি হওয়ার পরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন গ্রামবাসীরা। তাঁরা অভিযুক্ত যুবকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। উদয়নারায়ণপুর থানার পুলিশ গ্রামে গিয়ে মৃতদেহটি উদ্ধার করে। গ্রামবাসীরা মনে করছেন, সালিশি সভায় আনন্দ ক্ষমা চাইলেও ভিতরে ভিতরে তৃষাকে খুন করার পরিকল্পনা করেছিল। এদিন একা পাওয়ায় সে তৃষাকে খুন করে পালিয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে একটি খুনের মামলা দায়ের করে ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে। অভিযুক্ত যুবকের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।