দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুক্রবার নেতাজি ইনডোরে আইলিগজয়ী মোহনবাগান দলকে সম্বর্ধনার আয়োজন করেছিল রাজ্য সরকার। আর সেই অনুষ্ঠানে করোনা রুখতে ডজনখানেক পরামর্শ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বাস্থ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এদিন সাধারণ মানুষের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “সর্দি-কাশি হলে ভয় পাবেন না। মনে রাখবেন সব ভাইরাস করোনা নয়। সব মশা ডেঙ্গি নয়। সব মাছ ইলিশ নয়।” হাঁচি পেলে কী ভাবে হাঁচবেন, কী ভাবে মুখ মুছবেন, কী দিয়ে মুখ মুছবেন, কতটা দূরত্বে থেকে একে অন্যের সঙ্গে কথা বলবেন, তাও বলে দেন মুখ্যমন্ত্রী।
কার্যত মোহনবাগানের সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানের শেষ পর্ব করোনা সচেতনতা শিবিরে পরিণত হয়। পাখি পড়ানোর মতো করে ধরে ধরে প্রতিটি বিষয় বোঝান মমতা। দিদি এদিন বলেন, “যতদিন না ভাইরাসটা যাচ্ছে আমরা এখন কেউ কারও কারও সঙ্গে হাত মেলাব না। এটা মাথায় রাখুন। পাঁচ মিটার দূর থেকে কথা বলুন। নমস্কার করুন। তাহলে দেখবেন আপনারটা কেউ নেবে না আর আপনিও কারওটা নেবেন না।”
এমনিতে সাধারণ জনজীবনে করোনা ব্যাপক আতঙ্ক তৈরি করেছে। ট্রেনে-বাসে কেউ যদি সাধারণ গলা খুসখুসের জন্যও কেশে ফেলেন, সবযাত্রীর আতঙ্ক ভরা চোখ চলে যাচ্ছে তাঁর দিকে। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে সব খবরই থাকে। তাই হয়তো এদিন তিনি বলেন, “হাঁচি পেলে কি হাঁচবেন না? তা তো হয় না!” এরপর কী ভাবে মুখের সামনে হাত এনে হাঁচি আড়াল করতে হবে তাও দেখান মুখ্যমন্ত্রী। মমতা এদিন আরও বলেন, “হাত ধোবেন একঘণ্টা অন্তর। আধঘণ্টা অন্তর জল খান। ২০ সেকেন্ড অন্তত সাবান দিন। নখ পরিষ্কার করুন। হাতের মাঝখানটা কিন্তু সাবান দিতে ভুলবেন না। ওখানটা বেশি ময়লা জমে।”
কাঁচা সবজি না খাওয়ার পরামর্শ দেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, ভাল করে সেদ্ধ করে রান্না করে তারপর সবজি বা খাবার খান। বারবার মমতা আবেদন জানান, কেউ আতঙ্কিত হবেন না। আতঙ্ক ছড়াবেন না। তবে পরিস্থিতি যে গুরুতর তাও স্বীকার করে নেন মুখ্যমন্ত্রী। উদ্বেগের সঙ্গে জানান, এখনও এর কোনও ওষুধ বেরোয়নি। কিন্তু সাধারণ মানুষ যেন সতর্কতা বজায় রাখেন।