রফিকুল জামাদার ও দেবার্ক ভট্টাচার্য্য
উনিশের লোকসভার পরেই বদলাতে শুরু করেছে ছবিটা। তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা ঠিক যতটা হতোদ্যম হয়ে পড়েছেন, ততটাই এনার্জি ঝরে পড়ছে বিজেপি কর্মী-সর্থকদের হাবেভাবে। আর তাই নির্বাচনের পরে কর্মিসভায় দলীয় কর্মীদের মনোবল বাড়ানোর চেষ্টা করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ দিন একুশে জুলাইয়ের মঞ্চে দাঁড়িয়েও বিজেপিকে একহাত নিলেন তিনি। বললেন, বিজেপি নেতারা কান খুলে শুনুন, কাল যদি তৃণমূল কর্মীরা পাল্টা দেওয়া শুরু করে সামলাতে পারবেন তো?
লোকসভায় বাংলায় বিজেপি ১৮টা আসন পাওয়ার পর থেকেই ইভিএম-এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ডাক দিয়েছেন, ভোটিং মেশিনের জায়গায় ব্যালটে ভোট করার। এ বারের শহিদ সমাবেশেও তৃণমূলের প্রধান স্লোগান কিন্তু সেই ব্যালট ফিরিয়ে আনাই। আর এই প্রসঙ্গে বলতে গিয়েই বিজেপিকে আক্রমণ করেছেন মমতা। বলেন, "ওরা ( পড়ুন বিজেপি ) ১৮টা সিট পেয়েছে। তিন চারটে আসনে দু হাজার, তিন হাজার ভোটে জিতেছে। আবার ভোট হলে টোটালটাই উল্টে যাবে। কটা সিট পেয়ে আমাদের পার্টি অফিস দখল করতে শুরু করেছে। আমাদের মারতে শুরু করেছে।" তারপরেই হুঁশিয়ারি দিয়ে তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, "বিজেপি নেতারা কান খুলে শুনুন। আপনাদের নেতা বলছে, বাস থেকে টেনে নামাবেন। তৈরি থাকুন। আগামী দিন মিটিং মিছিল করবেন তো, এর পাল্টা যদি আমাদের লোকেরা দেয়, পারবেন তো!"
এ দিন সভামঞ্চে দাঁড়িয়ে মমতা অভিযোগ করেন, বিজেপি জায়গায় জায়গায় রেল অবরোধ করেছে বলে উত্তরবঙ্গ, জঙ্গলমহলের জেলাগুলো থেকে অনেক কর্মী-সমর্থক আসতে পারেননি। তৃণমূল এত বছর ক্ষমতায় থাকার পরেও যা করেনি, বিজেপি কয়েকটা সিট পেয়েই করতে শুরু করেছে বলে অভিযোগ তাঁর। তবে তার মধ্যেই দলীয় কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতে ভয় না পেয়ে এ সবের মোকাবিলা করারও নিদান দিয়েছেন দিদি। যাতে মনে না হয়, বিজেপিকে পাল্টা মার দেওয়ার জন্য উনি দলীয় কর্মীদের উস্কাচ্ছেন, তাই বক্তব্যের শেষ দিকে একটু সামলে নিয়ে বলেন যে বিজেপি এমন চালাতে থাকলে প্রশাসনই ব্যবস্থা নেবে।
মমতার এই বক্তব্যের পর রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, ভোটের পর থেকে পায়ের তলার মাটি হালকা হচ্ছে শাসকদলের। কর্মীরাও তেজ হারিয়ে ফেলছেন। আর সেই জায়গায় উঠে আসছে বিজেপি। সাম্প্রতিক সময়ে বিজেপি কর্মীদের বিভিন্ন মিছিল-আন্দোলনই তার প্রমাণ। সেইসঙ্গে কিছু জায়গায় রাজনৈতিক সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটছে। এই সময় কর্মীরা যাতে হতোদ্যম না হয়ে পড়েন, তার জন্যই এই ধরণের কথা বলছেন মমতা। সেইসঙ্গে তিনি বিজেপিকে বুঝিয়ে দেওয়ারও চেষ্টা করছেন, এখনও এই রাজ্যে তাঁর ক্ষমতায় সবথেকে বেশি। আর তাই রাজনৈতিক লড়াইয়ের পাশাপাশি পেশিশক্তির লড়াইয়ের প্রসঙ্গও মমতা তুলে আনলেন বলে মত পর্যবেক্ষকদের।