
শেষ আপডেট: 25 February 2019 09:30
লোকসভা ভোটের নির্ঘন্ট কাল, পরশু, তরশু যে কোনও দিন ঘোষণা করে দিতে পারে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। তার আগে সোমবার তৃণমূলের প্রাক-নির্বাচন শেষ কোর কমিটির বৈঠক ডেকেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বস্তুত ভোটের আগে এমনতর মিটিং ডেকে ভোকাল টনিক দেওয়া সব রাজনৈতিক দলেই দস্তুর। তবে দলকে চাঙ্গা রাখতে গিয়ে দিদি এ দিন যা যা বললেন (পড়ুন তাঁকে যা যা বলতে হলো) তা রাজনৈতিক ভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
নজরুল মঞ্চের সভায় দাঁড়িয়ে এ দিন এ কথা সে কথার পরই সোজা চলে আসেন বিজেপি-র প্রসঙ্গে। বলেন, ভোট এসে গেছে। এজেন্সি দিয়ে ভয় দেখানোও শুরু হয়ে গিয়েছে। কী ভয়ানক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আর কতগুলো গদ্দার রয়েছে। কেমন করে ফোন করে সব বলছে, চলে আসুন, কত টাকা লাগবে? টাকা দিয়ে সব কিনে নিতে চাইছে!
তৃণমূলের নেতারাই বলছেন, গদ্দার বলতে একদা দলের সেকেন্ড ম্যান তথা অধুনা বিজেপি নেতা মুকুল রায়ের কথাই বোঝাতে চেয়েছেন মমতা। বলতে চেয়েছেন, টাকার ঝুলি নিয়ে তৃণমূল ভাঙাতে নেমেছে বিজেপি। কিন্তু এ কথা বলার পরক্ষণেই কার্যত হুঁশিয়ারির সুরে মমতা বলেন, “টাকার লোভে যাবে তো! যাক! কিন্তু আজকে বিজেপি-র কোলে উঠে বাঁচছ, আগামীকাল বাঁচবে তো! এতো সস্তা নয় সব!” অনেকের মতে, যেটা বলতে চাইলেন অথচ বললেন না দিদি, তা হল, লোকসভা ভোটের পরেও বাংলায় তৃণমূলই কিন্তু সরকারে থাকবে। তখন বিজেপি বাঁচাবে তো!
দলের নেতা, পদাধিকারীদের উদ্দেশে মমতা আরও বলেন, এই ভোটটা এমপি-দের। কিন্তু তা বলে আমার ভোট নয় ভেবে কেউ যেন হাত গুটিয়ে না থাকেন। প্রার্থী হবেন এক জন, কিন্তু আমরা লড়ব সবাই। যেমন বিধাননসভা ভোটে সবাই লড়ি, পঞ্চায়েত ভোটে সবাই মিলে লড়ি, তেমনই। এখানেই না থেমে দিদি আরও বলেন, আর কদিনের মধ্যে ভোট ঘোষণা হবে। তার পর চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকাও ঘোষণা হয়ে যাবে। কিন্তু কে প্রার্থী হলেন, কে হতে পারলেন না তা নিয়ে আর কোনও কথা যেন না হয়। তাঁর কথায়, যাঁরা ভাল কাজ করেছেন, তাঁরা থাকবেনই। তবে যাঁরা টিকিট পাবেন না তাঁদের সম্মান ও মর্যাদা দিয়ে দল কাজে লাগাবে।
মমতার এই মন্তব্য থেকেও অনেকে আন্দাজ করছেন যে চোদ্দর ভোটের তুলনায় তৃণমূলের এ বার প্রার্থী তালিকায় বেশ কিছু বদলের সম্ভাবনা রয়েছে। সম্ভবত তারই ইঙ্গিত দিয়ে রাখলেন মমতা।
তবে পর্যবেক্ষকদের মতে, এ দিনের সভা থেকে দৃশ্যত দুটো ছবি পরিষ্কার। এক, কোথায় যেন তৃণমূলের উন্মাদনায় ভাঁটা পড়েছে। হতে পারে অতিরিক্ত মিটিং মিছিল করে অনেকেই হাঁফিয়ে গিয়েছেন। বা এও হতে পারে বিজেপি-কে বিপদ বলে অনেকেই বুঝতে পারছেন না। কেন না, তৃণমূলের মতাদর্শ বলে আজকাল স্পষ্ট কিছু নেই। অতীতে যদি কোনও মতাদর্শ থেকে থাকে, তা ছিল সিপিএম-বিরোধিতা। বামেদের লাল শালু দেখলেই তৃণমূল কর্মীদের রক্ত গরম হত। রাজনীতির জমিতে এখন সিপিএমের বিশেষ দেখা নেই। তৃণমূলেরও সেই তেজ যেন নিখোঁজ। হয়তো সেই কারণেই তাঁদের আগের মতো জাগতে বলতে হচ্ছে দিদিকে।
দ্বিতীয়ত, দিদির মনে হয়তো আশঙ্কা রয়েছে, ভোটের আগে প্রলোভনের ফাঁদে অনেকেই পা দিতে পারেন। তা ছাড়া দলের বহু সাংসদ যে হেতু নিজের নির্বাচন কেন্দ্রেই স্থানীয় সংগঠনের থেকে বিচ্ছিন্ন, তাই এই আশঙ্কাও রয়েছে, নিচু তলার সব নেতা ভোটে লড়াইয়ের জন্য ঝাঁপাবে কিনা।
এ ব্যাপারে প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী এ দিন বলেন, “দিদি এক সময় টাকা দিয়ে, পুলিশ দিয়ে, প্রশাসন দিয়ে বিরোধী দল ভাঙিয়ে তৃণমূলে লোক বাড়িয়েছেন। সেই নেতা আরও বড় টাকার অফার পেলে তো দল ছাড়তেই পারে! মতাদর্শহীন কোনও দলের এটাই অবধারিত পরিণতি। হুমকি, হুঁশিয়ারি দিয়েও তা কত দিন ঠেকাবেন তিনি!"
আরও পড়ুন-
https://thewall.in/news-state-mamata-banerjee-alleges-bjp-has-employed-a-company-to-tamper-evm-in-loksabha-election-2019/