দ্য ওয়াল ব্যুরো: রবিবাসরীয় দুপুরে ডুমুরজলার মাঠ থেকে সোজা বাংলায় রেশন দুর্নীতি নিয়ে দিদির বিরুদ্ধে তোপ দেগেছিলেন কেন্দ্রীয় বস্ত্রমন্ত্রী স্মৃতি ইরানি। বলেছিলেন, “দিদি আপনি কী করলেন? মহামারির সময়ে প্রধানমন্ত্রী দেশের ৮০ কোটি মানুষকে বিনামূল্যে পাঁচ কিলো করে চাল আর এক কিলো করে ডাল দিলেন। আর আপনি এখানে লকডাউনে চাল লুঠ করলেন !”
সোমবার নেতাজি ইনডোরের সভায় স্মৃতির নাম করেননি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে ঘুরিয়ে যেন জবাবই দিতে চাইলেন। এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কোভিডের সময় আমি নিজে গিয়ে দেখেছিলাম রেশন দোকান ঠিকমতো চলছে। একটা দুটো রেশন দোকানে গণ্ডগোল হয়েছে। আর টিভি সংবাদমাধ্যম এমন করল যেন লক্ষ লক্ষ রেশন দোকানে গণ্ডগোল হয়েছে।”
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “অনেকে তো পরিকল্পনা করে রটিয়ে দেয় মিথ্যে কথা। রেশন দোকানে গিয়ে হামলাও করেছে। আমি প্রতিদিন রিপোর্ট পাই। আমি দেখি। হিংসুটে লোকেরা… কাজ নেই, কর্ম নেই, সারাক্ষণ কুটুস কুটুস করে। কৈকেয়ী আর মন্থরার মতো কুটুস কুটুস করে।”
প্রসঙ্গত, কোভিডের সময় রেশন দুর্নীতি নিয়ে তৃণমূলের স্থানীয় স্তরের নেতাদের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ উঠেছিল। পরিস্থিতি এমন যায় যে রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড় পর্যন্ত মন্তব্য করেন, “রেশন নিয়ে যে দুর্নীতি চলছে তা যদি এখনই বন্ধ না করা যায় তাহলে অতীতের সমস্ত দুর্নীতিকে ছাপিয়ে যাবে।”
পরে দেখা যায় তৎকালীন খাদ্য সচিবকে সরিয়ে দিয়েছে নবান্ন। গতকাল তা নিয়েও আক্রমণ শানান কেন্দ্রীয় বস্ত্রমন্ত্রী। স্মৃতি ইরানি বলেন, “পঞ্চায়েতে আপনার দলের নেতারা দুর্নীতি করল, চাল লুঠ করল আর আপনি অফিসারদের সরিয়ে দিলেন। দলের নেতাদের শাস্তি দিলেন না। কেন দিদি কেন?”
মুখ্যমন্ত্রী এদিনও এফসিআই-এর বিরুদ্ধে পচা চাল দেওয়ার অভিযোগ তোলেন। তাঁর কথায়, “ফুড কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়ার পচা চাল। ওরা লক্ষ লক্ষ টন চাল কেনে উত্তরপ্রদেশ, অন্ধ্রপ্রদেশ থেকে। আর বাংলা থেকে কিছুই কেনে না। মাত্র ৬৯ হাজার টন। নাথিং।”