দ্য ওয়াল ব্যুরো: জুনিয়র ডাক্তারদের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈঠক শুধুমাত্র ১২টি দাবিতে আটকে থাকল না। উঠে এল স্বাস্থ্য ব্যবস্থার একাধিক ফাঁক ফোঁকর। চিহ্নিত করে দিলেন জুনিয়র ডাক্তাররা। আর মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বাস্থ্যমন্ত্রী সবটা শুনলেন। মেনেও নিলেন।
একাধিক মেডিক্যাল কলেজের জুনিয়র ডাক্তার এ দিন মুখ্যমন্ত্রীর সামনে পরিকাঠামো নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন। একটা সময় মমতা নিজেপি বলেন, “কত মেশিন কেনা হয়ে পড়ে আছে। ব্যবহারই হয় না। জং ধরে যাবে। তারপর আর কাজে লাগবে না।”
একাধিক সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে যাওয়া রোগীদের এই মেশিন দুর্ভোগের জন্য দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হয়। হয়তো যে দিন ডেট দিয়েছে হাসপাতাল, সে দিন গিয়ে দেখা গেল ওই পরীক্ষার যন্ত্র খারাপ। হয় সেই রোগীকে বাইরে থেকে কোনও বেসরকারি অ্যাথলজিক্যাল ক্লিনিক থেকে সেই পরীক্ষা করাতে হয়, না হলে অপেক্ষা করতে হয় কবে সাড়বে তার জন্য। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, হাসপাতালে যন্ত্র পড়ে থাকলেও তা ব্যবহার হয় না। পড়ে পড়ে নষ্ট হয়।
গোটা আলোচনায় বারবার উঠে এসেছে গোটা সিস্টেমের মধ্যে একটা বড় গর্তের ছবি। জুনিয়র ডাক্তাররাও মুখ্যমন্ত্রীকে বলেন, “আপনি যে প্রকল্পগুলি নিয়েছেন সে গুলি খুবই ভাল। কিন্তু তার প্রয়োগ হচ্ছে কই!”
আলোচনা চলতে চলতে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজের প্রতিনিধি যখন বলতে দাঁড়ান, তিনি বলেন, “উত্তরবঙ্গ ম্মেডিক্যাল কলেজে সিটি স্ক্যানের মেশিনই নেই।” একটা মেডিক্যাল কলেজে যদি সামান্য সিটি স্ক্যানের মেশিন না থাকে তা হলে কী অবস্থা সহজেই বোঝা যায়। জুনিয়র ডাক্তাররা এ-ও বলেন, কখনও কখনও এমনও পরিস্থিতি হয় যে, একটি বেডে পাঁচ জন রোগীকে রাখতে হয়।
নিরাপত্তা, হাসপাতালের গুণ্ডামি, চিকিৎসক নিগ্রহ, পুলিশের ভূমিকার সঙ্গে সঙ্গে এ দিনের বৈঠক থেকে রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সার্বিক ছবিটাও উঠে এসেছে এ দিন। পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতেই, মুখ্যমন্ত্রীর প্রকল্প গুলি রাংতা হয়ে থেকে যাচ্ছে, ভিতরটা সেই ফোঁপড়াই।