দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনার জন্য রাজ্যে যে এলাকাগুলিতে বাড়তি সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সেগুলিকে হটস্পট বলতে রাজি নয় রাজ্য সরকার। বরং এ নিয়ে মানুষের মধ্যে যাতে আতঙ্ক বা বিভ্রান্তি না ছড়ায় সে জন্য শব্দচয়নে অনেকটাই সংযত নবান্ন।
শনিবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "আমরা এগুলোকে হটস্পট বলছি না। কেউ কেউ নিজের মতো করে শব্দ বানিয়ে নিচ্ছেন। তার চেয়ে এটাকে মাইক্রো প্ল্যানিং অফ দ্য গভর্মেন্ট বলতে পারেন।"
এখানেই থেমে না থেকে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, এই মাইক্রো প্ল্যানিং মানে কিন্তু সব কিছু বন্ধ নয়। মুদিখানার দোকান, বাজার, অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের যোগান ও পরিষেবা সবই অব্যাহত থাকবে। শুধু মানুষের কাছে অনুরোধ, বাড়ি থেকে যথাসম্ভব কম বেরোন। কারণ, প্রধানমন্ত্রীও বলেছেন, আগামী দুটি সপ্তাহ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
বিষয়টি আদতে মাইক্রো প্ল্যানিংই বটে। যে এলাকায় বেশ কয়েকজন মানুষ সংক্রামিত হয়েছেন, সেখানে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে তাঁদের সংস্পর্শে এসে আরও মানুষের মধ্যে সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা থাকে। সেই কারণে ওই এলাকায় লকডাউনের শর্ত বজায় রেখে, মানুষের যাতায়াতের উপর আর একটু নজর ও নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারলে সংক্রমণ আরও ছড়ানোর আশঙ্কা কমে যায়। তা ছাড়া ওই এলাকায় কারও মধ্যে সন্দেহজনক উপসর্গ দেখা দিচ্ছে কিনা সে বিষয়ে নজর রেখে কোভিড টেস্ট বাড়িয়ে নতুন আক্রান্তদের চিহ্নিত করা ও প্রয়োজনমতো তাঁদের অন্যদের থেকে বিচ্ছিন্ন রাখাও সহজ হয়।
মুখ্যমন্ত্রীও এদিন সেভাবেই বোঝানোর চেষ্টা করেছেন। তিনি বলেছেন, বাংলায় এখন করোনা অ্যাকটিভ রয়েছেন ৯৫ জন। এর মধ্যে ৭০ জনই ১৬ টি পরিবারের। যে এলাকাগুলিতে এই পরিবারের বসবাস সেই এলাকাগুলি ভাল করে স্যানিটাইজ করা হবে। তাঁর কথায়, “কোনও এলাকায় একটা পরিবারের একজন যদি পজিটিভ হয় তার মানে তাঁকে বা ওই এলাকার মানুষকে অচ্ছুত করে দেওয়া নয়। কোথাও যদি একটা কুকুর মরে পড়ে থাকে তাহলে কি পুরসভার লোক গিয়ে সেটাকে তুলে সরিয়ে দেয় না? ওই জায়গাটায় একটু গ্যামাকসিন পাউডার ছড়িয়ে দেয় না?"
বস্তুত শুক্রবার রাত থেকে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা ঘিরে ফেলার কাজ শুরু করে দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। মাইকে প্রচার করে গৃহবন্দি থাকার কথা জানিয়ে দেওয়া হয় জনসাধারণকে। তবে শনিবার মুখ্যমন্ত্রী পইপই করে বোঝানার চেষ্টা করেন, এ ব্যাপারে বিভ্রান্ত হওয়ার কারণ নেই। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে যে সব হটস্পটের নাম উঠে এসেছিল, সে ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, সরকার কিন্তু কোনও তালিকা প্রকাশ করেনি। যারা এটা করছেন, তাদের বলছি বন্ধ করুন। দায়িত্বশীল আচরণ করুন। তাঁর কথায়, "ভবানীপুরে একজনের শরীরে পজিটিভ পাওয়া গেছে, ওমনি বলে দেওয়া হচ্ছে, ওখানে সিল করে দেওয়া হচ্ছে। পর্ণশ্রীতেও সেরকম গুজব ছড়িয়েছে। কিন্তু আমি বলছি, এরকম কিছু ব্যবস্থা ওখানে নেওয়া হয়নি। বাজার খোলা রয়েছে। গুজবে কান দেবেন না।"
প্রসঙ্গত, বাংলায় এলাকা ধরে ধরে সংক্রমণের গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ তথা আইসিএমআর রাজ্যে কয়েকটি করোনা-প্রবণ এলাকা চিহ্নিত করেছে। মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, "আইসিএমআর আগে রাজ্যের ছ'টি জায়গার কথা বলেছিল। কিন্তু আমরা দেখেছি ওটা ছ'টা নয়, তিনটে জায়গা হবে।"