দ্য ওয়াল ব্যুরো: মুর্শিদাবাদ নিয়ে তাঁর শিরপীড়া বরাবরের। ২০১১ থেকে গোটা রাজ্য তাঁর নিয়ন্ত্রণে আনলেও মুর্শিদাবাদ থেকে গিয়েছে হাতের বাইরেই। বুধবার জনসভা থেকে সে কথা বলেই ফেললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
ভোটের প্রচারের শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী তিনি । বারবার জানিয়ে দিচ্ছেন, এ বার বাংলায় তৃণমূল কংগ্রেস বিয়াল্লিশে বিয়াল্লিশ পাচ্ছেই। কিন্তু বুধবার মুর্শিদাবাদের কান্দির জনসভা থেকে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গলা থেকে আক্ষেপ ঝরে পড়ল। বহরমপুর লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী অপূর্ব সরকার ওরফে ডেভিডের সমর্থনে জনসভা করতে গিয়ে দিদি বললেন, “আমার দুর্ভাগ্য যে, আমি এই জেলার মানুষকে তৃণমূলের সিম্বলটাই চেনাতে পারিনি।”
দীর্ঘদিন ধরেই মুর্শিদাবাদ কংগ্রেসের খাস তালুক হিসেবে পরিচিত। তার চেয়েও বেশি অধীর চৌধুরীর দুর্ভেদ্য দুর্গ। ২০১৩-র পঞ্চায়েত ভোটেও জেলা পরিষদ দখলে রেখেছিল কংগ্রেস। কিন্তু আঠেরোর ভোটে তা নিজেদের দখলে নিয়েছে তৃণমূল। যদিও এ ব্যাপারে কংগ্রেসের অভিযোগও কম নয়। সাবেক দলের নেতারা বলেন, “যদি পেটোয়া পুলিশ দিয়ে ভোট না হতো, তাহলে তৃণমূলের হিম্মত ছিল না, জেলা পরিষদ জেতার।” কিন্তু এখন লোকসভার ভোট। কড়া নিরাপত্তায় ভোট হবে। পর্যবেক্ষকদের মতে, শাসক দলও জানে এ বার পঞ্চায়েতের মতো কিছু করা যাবে না।
চোদ্দর লোকসভা নির্বাচনে মুর্শিদাবাদে শূন্য পেয়েছিল তৃণমূল। জেলার তিনটি আসনের মধ্যে দু’টি জিতেছিল কংগ্রেস এবং একটি সিপিএম। এ বার তাই মুর্শিদাবাদে ঘাসফুল ফোটাতে মরিয়া তৃণমূল। বিয়াল্লিশে বিয়াল্লিশ করতে মুর্শিদাবাদের তিনটিতেই জিততে হবে। তাই অনেক দিন আগে থেকে মালদহ, মুর্শিদাবাদের জন্য পরিকল্পনা নিয়ে নিয়েছিলেন মমতা। কংগ্রেসের মুঠোয় থাকা দুই জেলায় পর্যবেক্ষক করে পাঠিয়েছেন পরিবহণ ও পরিবেশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে। কিন্তু মমতার গলায় এই আক্ষেপ শুনে অনেকেই বলছেন, “দিদি সহানুভূতি কুড়নোর কৌশল নিয়েছেন।”
মুর্শিদাবাদকে যে তিনি হাতের তালুর মতো চেনেন তাও এ দিনের জনসভায় বোঝাতে চান মুখ্যমন্ত্রী। কতবার তিনি লালগোলা, ভগবানগোলা, হরিহরপাড়া, কান্দি-সহ জেলার বিভিন্ন জনপদে এসেছেন তার ফিরিস্তি দেন জনসভা থেকে। আগের দিনই বলেছিলেন, “আপনারা ডেভিডকে জেতান, বহরমপুরে যা চাইবেন আমি দেব।” এ দিন সে কথা না বললেও, সুর ছিল একই রকম।
মমতার এই আক্ষেপের কথা শুনে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি অধীর। প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি বলেন, “তাও ভাল, উনি এটা স্বীকার করেছেন। কিন্তু কথা হল, পরের বার লোকসভা ভোটে এসেও ওঁকে মুর্শিদাবাদে আজকের বক্তৃতারই টেপ বাজাতে হবে।”