দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত সোমবার হওড়া শরৎ সদনে ডিজিটাল রেশন কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে মানুষের হয়রানি নিয়ে নিজের ক্ষোভ জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই সোমবার সেই একই ইস্যুতে ধমক দিলেন পূর্ব বর্ধমান জেলার সরকারি আমলাদের। সঙ্গে যোগ করলেন কাস্ট সার্টিফিকেট পাওয়ার জটিলতাও।
এ দিন জেলার প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী আমলাদের উদ্দেশে প্রশ্ন করেন, "এখানে কাস্ট সার্টিফিকেট নিয়ে এত সমস্যা কেন।" এক আমলা উঠে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে ১৯৫১ সালের কোনও কিছুর লিঙ্কের কথা বলতে চান। বোঝানোর চেষ্টা করেন, নির্দিষ্ট কিছু ডকুমেন্ট না দিলে এই সার্টিফিকেট দেওয়া যাচ্ছে না। তাঁর কথা শেষ করার আগেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "১৯৫১ সালের কথা বলে কোনও লাভ আছে। আমার কাছে যদি আমার মায়ের সার্টিফিকেট চায়, আমি দেব কী ভাবে? অদ্ভুত তো! আপনাদেরও বলছি তো, নিয়মটা সোজা করুন। মানুষের যাতে অসুবিধে না হয় দেখুন।"
একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী ঢুকে পড়েন রেশন কার্ড প্রসঙ্গে। বলেন, "আপনারা কী করছেন? যার পাওয়ার কথা নয়, সে পাচ্ছে। আর যার দরকার সে পাচ্ছে না।" মমতা আরও বলেন, "রেশন ডিলাররা চাল তুলে নিয়ে অন্য জায়গায় বেচে দিচ্ছে। আমার কাছে সব খবর আছে।"
এ দিন মুখ্যমন্ত্রী জেলা প্রশাসনকে ক্যাম্প করে রেশন কার্ড বিতরণের নির্দেশ দেন। বলেন, "আপনারা মানুষের কাছে প্রচার করুন। দরকার হলে একটা মিষ্টি করে ক্যাসেট করুন। ডিজিটাল রেশন কার্ড নিয়ে আমি যেন কোনও অভিযোগ না শুনি।"
সেই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী তোপ দাগেন ডেটা অপারেটর বিরুদ্ধে। বলেন, "এই ডেটা অপারেটররা নাম, ঠিকানা ইচ্ছে করে ভুল করছে। যাতে সরকারের বদনাম হয়। নিজেরা তো করে দিয়ে চলে যাবে। আর আমদের ঘাড়ে দোষ চাপবে। আমি সব ডিএম-কে বলছি, ডেটা অপারেটদের ব্যাপারটা টেক কেয়ার করুন।"
ডিজিটাল রেশন কার্ড হওয়ার পর বহু লোক রেশনের সুবিধে থেকে বঞ্চিত। গাঁয়ে গঞ্জে এমন সংখ্যা প্রচুর। পর্যবেক্ষকদের মতে, দু'টাকা কিলো চালের মতো প্রকল্প যে অংশের মানুষের কাছে পৌঁছে যাওয়ার কথা, কাগজপত্রের নিয়মের জটিলতায় তা হচ্ছে না। ফলে, সরকারের পয়সার নামে পয়সা যাচ্ছে, অথচ উদ্দেশ্য সাধন হচ্ছে না। মুখ্যমন্ত্রীর রাগ তো হবেই!