দ্য ওয়াল ব্যুরোঃ নদীমাতৃক বাংলায় নদী থেকে বেআইনিভাবে বালি তুলে পাচার করার অভিযোগ আজকের নয়। দক্ষিণবঙ্গের অধিকাংশ জেলা থেকে প্রায় প্রতিদিনই বালি পাচারের অভিযোগ ওঠে। রীতিমতো সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে একে ঘিরে। আর অধিকাংশ জায়গায়তেই নাম জড়িয়েছে শাসক দলের নেতাদের। তাতে সাধারণ মানুষের কাছে তৃণমূল কংগ্রেসের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে বলেই আক্ষেপ করেন দলের অনেক প্রথম সারির নেতা। সামনে নির্বাচন। এই অবস্থায় যাতে কোনওভাবেই এই বেআইনি বালি পাচার না হয়, সেদিকে কড়া নজর রাখার নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
বুধবার ঝাড়গ্রামে প্রশাসনিক বৈঠকে করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই বৈঠক চলাকালীনই ওঠে এই বালি চুরি ও পাচারের অভিযোগ। আর বালি পাচারের অভিযোগ উঠতেই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন মুখ্যমন্ত্রী। সঙ্গে সঙ্গে জেলার পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের তিনি বলেন, কোনও মতেই এই বালি পাচার বরদাস্ত করা যাবে না। অভিযোগ উঠলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। যারা বালি পাচারের সঙ্গে যুক্ত তাদের গ্রেফতার করারও নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
কিছুদিন আগেই পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার গড়বেতায় শিলাবতী নদী থেকে বেআইনি পালি তোলার অভিযোগ ওঠে। জানা যায়, রাতের অন্ধকারে লরি লরি বালি পাচার হয়ে যাচ্ছে রোজ। আর এই গোটা ঘটনায় শাসকদলের নেতারা অভিযোগ তুলছেন, প্রশাসনের বিরুদ্ধেই। তাঁদের বক্তব্য, প্রশাসনের একাংশ ও অসাধু ব্যবসায়ীদের যোগসাজসে এই কারবার চলছে। অভিযোগ জানানোর পরও কোনও ব্যবস্থা হচ্ছে না। এই বালি পাচারের ফলে সরকারের রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে কোটি কোটি টাকা। বগড়ি ডিহি থেকে খড়কুশমা পর্যন্ত সরকারি অনুমোদিত ৯টি বালি খাদান রয়েছে। তার বাইরেও বালি তোলার কাজ চলছে রমরমিয়ে। লাইসেন্সপ্রাপ্ত খাদানে বালি ওঠে দিনের বেলা। আর রাতে ওঠে বেআইনি খাদান থেকে।
সম্প্রতি দামোদর নদের বুক থেকে অবৈধভাবে বালি তোলাকে কেন্দ্র করে ধুন্ধুমার পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় বাঁকুড়ার রাঙামাটি অঞ্চলে। কেনেটির মানা গ্রাম সংলগ্ন দামোদরের বুক থেকে অবৈধভাবে বালি তুলতে আসা এক গাড়ির চালককে ব্যাপক মারধর করে গ্রামবাসীরা। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে যথেষ্ট উত্তেজনা ছড়ায় সোনামুখী থানার ডিহিপাড়া পঞ্চায়েতের রাঙামাটি কেনেটি মানা গ্রাম এলাকায়।
বাঁকুড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, হুগলি, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, ঝাড়গ্রামের একাধিক জায়গায় বারবার এই ধরনের ঘটনায় এর আগেও বিভিন্ন প্রশাসনিক বৈঠকে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গিয়েছিল মুখ্যমন্ত্রীকে। ফের একবার তার অন্যথা হল না। কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।