দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্লগ ওভার হয়তো এখনই বলা যাবে না। তবে হ্যাঁ প্রচারের গতি বাড়াতে শুরু করে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার তাঁর সভা ছিল কালনায়। দিদির সেই বক্তৃতার হাইলাইটস—
• কালনা থেকে নবদ্বীপ, শান্তিপুর জুড়ে দেওয়ার জন্য ১১০০ কোটি টাকা দিয়ে ব্রিজ তৈরি করছি। এই ব্রিজ তৈরি হয়ে গেলে কয়েক মিনিটেই কালনা থেকে নবদ্বীপ, শান্তিপুরে চলে যাবেন।
• নবদ্বীপকে হেরিটেজ শহর করে দেওয়ার জন্য, ৭০০ একর জমি দিয়েছি। আগামী দিনে মন্দির নগরী কালনাকেও হেরিটেজ শহর করে দেব।
• দুষ্টু গরুর থেকে শূন্য গোয়াল ভাল। কী মা, বোনেরা ঠিক তো? কয়েকটা দুষ্টু গরু ঘেউ ঘেউ করতে করতে, না ঘেউ ঘেউ না, হাম্বা হাম্বা ডাকতে ডাকতে ইধার ওধার করে বেড়াচ্ছে নিজেদের দুর্নীতি চাপা দেওয়ার জন্য। তারা গেছে ভাল হয়েছে। পাপ বিদায় হয়েছে।
• যারা তৃণমূলে থেকে তৃণমূলের খারাপ করে তাদের দলে থাকার প্রয়োজন নেই। তৃণমূল কংগ্রেস তারাই করবে যারা মানুষের কাজ করবে। মা ছেলেদের খেয়েদেয়ে লালন-পালন করবে। আর মা যখন অসুস্থ হয়ে পড়বে, বা মায়ের প্রয়োজন হবে খাদ্যের, তখন তুমি মাকে বিট্রে করে পালিয়ে যাবে, এই সন্তান কুসন্তান। এই সন্তান কখনও মায়ের সুসন্তান হতে পারে না।
• বিজেপি পার্টিটা কোনও ধর্ম জানে না। মুখে বলে হিন্দু ধর্ম জানে। কিন্তু হিন্দু ধর্মের মধ্যে কত ধর্ম আছে জানে না। এখানে এসে বলছে বিবেকানন্দ ঠাকুর। মানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের টাইটেল বিবেকানন্দর উপর লাগিয়ে দিয়েছে। ইশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভেঙেছে। আজ পর্যন্ত মানুষ জানতে পারল না নেতাজির মৃত্যু দিবস কবে। আর দুর্গাপুজো কোনও দিন করেছে এরা? কালীপুজো, লক্ষ্মীপুজো, সরস্বতী পুজো করেছে? জানে এসব? জানেই না।
• আমার বাড়িতে সেই ১৯৯৮ সাল থেকে কালীপুজো হয়। কতদিন আগে থেকে। দুর্গাপুজো প্রত্যেকটা ক্লাব করে বাংলায়।
• বর্ধমান কৃষিপ্রধান দেশ। বর্ধমানের কৃষকরা আমাদের চাল না দিলে আমরা কীভাবে চাল খেতাম। আমি যে শাড়িটা পরে আছি সেটাও বর্ধমানের তাঁতিদের বোনা। যারা মাছ ধরে তাদেরও একটা কাজ আছে।
• কৃষকদের আর কোনও ট্যাক্স লাগে না। কৃষিজমিতে সব ট্যাক্স মুকুব করে দিয়েছে আমাদের সরকার। শস্যবিমা হান্ড্রেড পারসেন্ট দিই আমরা। যদি কৃষি জমি জলে ঝরে নষ্ট হয়ে যায়, আমরা প্রত্যেক কৃষককে সাহায্য করেছি। আমরা চাল কিনি কৃষকদের থেকে।
• কেন বিজেপিকে ভোট দেবে। উত্তরপ্রদেশ থেকে ১৯ লক্ষ টন, অন্ধ্রপ্রদেশ থেকে ১১ লক্ষ টন কেনো। আর বাংলার বেলায় ৩০ হাজার টনও জোটে না। আমরা কিনি ৪৪ থেকে ৪৫ লক্ষ মেট্রিক টন। তার থেকে রেশনে বিনা পয়সায় চাল দেওয়া হয়। ডাইরেক্ট, ধান দিন, চেক নিন। তৃণমূল কংগ্রেস থাকছে। আপনাদের ধান প্রতিবার কিনব।
• বিনা পয়সায় রেশন দিচ্ছি, বিনা পয়সায় রেশন দেব। আমাদের সরকার থাকবে। আমাদের সরকার থাকলে প্রতিটা পরিবার স্বাস্থ্যসাথী কার্ড দেখিয়ে চিকিৎসা পাবেন। প্রতি বছর আমরা দু’বার দুয়ারে সরকার করব। আগে কৃষকদের ভাতা ছিল ৭৫০ টাকা। বাড়িয়ে ১ হাজার টাকা করা হয়েছে। আগে ৬০ হাজার কৃষক পেতেন। এখন ১ লক্ষ কৃষক পান। বিধবা ভাতা দিয়েছি। বয়স্ক মানুষদের পেনশন দিয়েছি।
• বাজেট পাশ হবে মার্চ-এপ্রিলে। ১৮ বছরের পর থেকে কেউ বিধবা হয়ে গেলেও আমরা ১০০০ টাকা করে বিধবা ভাতা দেব। যত পুরোহিত মন্দিরে কাজ করে তাদেরও আমরা ১০০০ টাকা করে দিচ্ছি। ২ লক্ষ লোকশিল্পী আছে। আমরা তাদেরও দিই। তফসিলি বন্ধু, আদিবাসীরা সবাই ৬০ বছর বয়স হলেই ভাতা পাবে। ৯৯ শতাংশ সংখ্যালঘুরা ওবিসি হয়ে যাওয়ায় তারাও এই সুবিধা পাচ্ছেন। ২ কোটির বেশি সংখ্যালঘুদের স্কলারশিপ দেওয়া হয়েছে।
• দোলেও ছুটি দিয়েছি, হোলিতেও ছুটি দিয়েছি। অর্থাৎ আমরা সবাইকে নিয়ে চলার চেষ্টা করি।
• বিজেপি ইলেকশনের সময় অনেক টাকা নিয়ে চলে আসছে। ওটা ওদের টাকা নয়, চুরি করা টাকা। টাকা দিলে ভাল করে মাংস, ভাত খেয়ে নেবেন। আর ভোটের বাক্সে উল্টে দেবেন। বিজেপির রাজ্য ত্রিপুরাতে গিয়ে দেখে আসুন। ওখানকার বাঙালিরা ভোট দিয়ে এখন বুঝতে পারছে কী ভুল করেছে। খালি কাঁদছে। একটা কথা কাউকে বলতে দেয় না। ধরে ধরে পেটাচ্ছে।
• অসমে এনআরসি নিয়ে ১০০ লোক মারা গেল। দিল্লিতে দাঙ্গার নাম করে কত লোক মারা গেছে কেউ জানে না। উত্তরপ্রদেশে নমঃশূদ্র, দলিত, আদিবাসী, সংখ্যালঘু, জেনারেল কাস্ট সবার উপর অত্যাচার হচ্ছে।
• এমনকি সাংবাদিকরাও রেহাই পাচ্ছে না। রাজদীপ সরদেশাইয়ের মতো এত সিনিয়র রিপোর্টার শুধু একটা টুইট করেছে, সে যাতে টিভিতে কথা বলতে না পারে তাই তাকে সেন্সর করা হয়েছে।
• মোদীবাবুদের বলুন বড়লোক কৃষকদের টাকা দেবেন বলেছিলেন, টাকাটা পাঠিয়ে দিন। আমরা নাম পাঠিয়ে দিয়েছি। টাকা না পাঠিয়ে খালি মিথ্যে কথা বলে। এখানকার কৃষক ভাল আছে। আর মোদীবাবুদের কৃষক?
• যান দেখে আসুন হরিয়ানায়, পাঞ্জাবে, দিল্লিতে, উত্তরপ্রদেশে। পেরেক পুঁতে পুঁতে রেখে দিয়েছে রাস্তায়। যাতে লোকে হাটতে না পারে। ওই তিনটে কালো বিল সব লুঠ করে নেবে।
• আপনারা জমিতে চাষ করবেন। আর কালোবাজারিরা আপনাদের সব লুঠ করে নিয়ে যাবে। আপনার কাছে কিছু থাকবে না। আপনারা ধান উৎপাদন করবেন। আর ওরা খেয়ে চলে যাবে। আগে থেকে গোডাউন তৈরি করেছে। সেই জায়গায় কৃষকদের সব লুঠ করে নেবে। যতক্ষণ না বিল বাতিল করছে কৃষকদের আন্দোলনকে আমরা সমর্থন করছি, করব। কৃষক, শ্রমিক, জোট বাঁধুন, তৈরি হোন।
• হিন্দু ধর্মকে কুৎসা করে বেড়াচ্ছে। আমরা হিন্দু ধর্মের লোক নই? আমরা কি আকাশ থেকে পড়েছি। কই আমরা তো বলি না আমি হিন্দু বলে আমি মুসলমানকে ঘৃণা করব, বুদ্ধকে ঘৃণা করব, আর একজনকে ঘৃণা করব। না, আমাদের বাবা মা এ জিনিস শেখায়নি।
• বহিরাগত কিছু গুণ্ডা, তারা মনে করছে টাকা দিয়ে আর ফাইভ স্টার বাবুদের গাড়ি চালিয়ে মিথ্যে কথা বলবে। গরিবদের বাড়ি গিয়ে ভাত খাওয়ার ছবি তুলছে। ওটা ভাত খাওয়া নয়, ছবি তোলা। ভাত খাওয়ার আগে দেখবেন সোনার থালায় ফাইভ স্টার হোটেল থেকে খাবার কিনে এনে খাচ্ছে। যেটা দেখায় ওটা খায় না। আর দেখবেন হিমালয়ান ওয়াটার খাচ্ছে। এক বোতলের দাম ১০০ টাকা।
• যা ছিল বাম, তাই বিজেপির ওই শাম। নেই কো কোনও দাম। শান্তিতে থাকতে গেলে, স্বস্তিতে থাকতে গেলে তৃণমূলই আপনার বন্ধু। তৃণমূলের যদি কেউ অন্যায় করে, আমি আছি দাঁড়িয়ে, কান দুটো মুলে দেব, বা দু’গালে দুটো থাপ্পর দেব। বলব তুমি এই অন্যায়টা কেন করছ। অন্যায় আমার কানে এলে আমি বরদাস্ত করব না। তাই দু’একজন ভয়ে আগে থেকেই পালিয়ে যাচ্ছে।