দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলার পুলিশ মন্ত্রী তিনিই। অথচ তাঁর অভিযোগ, পুলিশ নাকি বেছে বেছে তৃণমূলের লোকেদেরই হেনস্থা করছে। অন্য দলের লোকেদের কিছু বলছে না! কিন্তু ঘরের লোকেদেরও তো দেখতে হবে!
সুতরাং বুধবার ডেবরায় প্রশাসনিক সভায় পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামের পুলিশ কর্তাদের ভালরকম বকুনি খেতে হল দিদি-র থেকে। একে একে পুলিশ কর্তা-সহ প্রশাসনিক আধিকারিকদের দাঁড় করিয়ে কড়া বকুনি দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হাতে তালিকা নিয়ে মঙ্গলবার পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রাম জেলার যৌথ প্রশাসনিক বৈঠকে বললেন, হাজার হাজার অভিযোগ আসছে। রাস্তাঘাট, হাসপাতাল এ সব তো আছেই। আইনশৃঙ্খলা নিয়েও ভুড়ি ভুড়ি অভিযোগ জমা পড়েছে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে।
এ দিন মমতা বলেন, “বেছে বেছে তৃণমূলকর্মীদের হেনস্থা করা হচ্ছে। কেন? তৃণমূলকে হাতের কাছে পাওয়া যায় বলে?” ডেবরায় অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক বৈঠকের মাঝে ঝাড়গ্রামার থানার আইসি-কে দাঁড় করিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আপনাকে তো কাজ করতে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু আপনি তো ওখানে গিয়ে কাজের থেকে অকাজ করছেন।”
এত দিন বিরোধীরা অভিযোগ তুলত, তাদের কর্মীদের হেনস্থা করছে পুলিশ। মিথ্যে মামলায় জড়িয়ে দিচ্ছে। নারকোটিক্সের কেস দিয়ে জেলে ঢুকিয়ে দেওয়ার কথা তো মুকুল রায়রা কতবার বলেছেন তার ইয়ত্তা নেই। কিন্তু এ দিন সম্পূর্ণ উল্টো কথা শোনা গেল মুখ্যমন্ত্রীর গলায়। সোজাসাপ্টা বলে দিলেন, তৃণমূল কর্মীদের হেনস্থা করছে পুলিশ।
এখানেই থেমে থাকেননি মুখ্যমন্ত্রী। অটো-টোটো কেন শুধু একটি দলের প্রতীক লাগিয়ে ঘুরছে তা নিয়েও পুলিশ কর্তাদের এ দিন বকেছেন মুখ্যমন্ত্রী। ব্যাপারটা দ্রুত দেখতে বলেছেন তাঁদের।
সেই পঞ্চায়েত ভোট থেকে এই দুই জেলায় হার অব্যাহত তৃণমূলের। লোকসভাতেও হারতে হয়েছে শাসক দলকে। মান বাঁচিয়েছে কেবল ঘাটাল আসন। মুখ্যমন্ত্রীর মুখে এ দিন আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে এমন কথা শুনে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, তাহলে কি পুলিশ এখন বিজেপি-র কথায় চলছে?
যদিও বিজেপি নেতারা বলছেন, মানুষের চাপে এখন পুলিশ এই দুই জেলায় যা ইচ্ছে তাই করতে পারছে না। তাই মুখ্যমন্ত্রী এ কথা বলেছেন। গেরুয়া শিবিরের এক মুখপাত্র বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী প্রশাসনিক বৈঠকে আসলে পুলিশ কে ঘুরিয়ে বলে দিলেন, তাঁর দলের ‘কাজের ছেলেরা’ যা ইচ্ছে তাই করলেও কোনও ব্যবস্থা যেন না নেওয়া হয়। কিন্তু এটা অত সহজ হবে না।”
এ দিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন শুধুমাত্র পশ্চিম মেদিনীপুর থেকেই তাঁর কাছে সাড়ে তিন হাজার অভিযোগ জমা পড়েছে। সরকারি আধিকারিকদের উদ্দেশে মমতা এ দিন বলেন, “আপনারা কাগজ ফেলে রেখে দিচ্ছেন। আর মানুষের হয়রানি হচ্ছে। গালাগালি শুনতে হচ্ছে আমাদের। আপনারা কাজ পেন্ডিং রাখছেন। পেন্ডেন্সিটাই টেন্ডেন্সি হয়ে গিয়েছে।”
খড়্গপুর সদরের বিডিও-কে মমতা জিজ্ঞেস করেন, আপনি কাদের নিয়ে কাজ করছেন? জবাবে তিনি বলেন, “ম্যাডাম, আমি আমার অফিস স্টাফেদের নিয়েই কাজ করি।” পাল্টা মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “না। আপনি আপনার অফিস স্টাফদের নিয়ে কাজ করেন না। অন্য লোকজনকে নেন। আমি খবর না নিয়ে বলছি না।” বিডিওদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তা- বাংলা আবাস যোজনার নাম লিখতে হবে। তা না হলে এ বার ব্যবস্থা নেবে সরকার।