যেখানে সেখানে পান-গুটখার পিক, দিদি কিন্তু খুব রেগে গিয়েছেন!
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বহু প্রতীক্ষিত দক্ষিণেশ্বর স্কাই ওয়াক উদ্বোধনের আটচল্লিশ ঘণ্টার মধ্যেই রঙ বদলে গিয়েছিল। কালী পুজোর আগের দিন অর্থাৎ, ৫ নভেম্বর দক্ষিণশ্বর স্কাই ওয়াকের উদ্বোধন করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু ৭ তারিখই নীল-স
শেষ আপডেট: 20 November 2018 06:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বহু প্রতীক্ষিত দক্ষিণেশ্বর স্কাই ওয়াক উদ্বোধনের আটচল্লিশ ঘণ্টার মধ্যেই রঙ বদলে গিয়েছিল। কালী পুজোর আগের দিন অর্থাৎ, ৫ নভেম্বর দক্ষিণশ্বর স্কাই ওয়াকের উদ্বোধন করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু ৭ তারিখই নীল-সাদা স্কাই ওয়াকের বেশ কিছু জায়গা পান-গুটখার পিক ফেলে নোংরা করার ছবি উঠে আসে। চেহারা বদলে যায় রানি রাসমণি স্কাই ওয়াকের। সে খবর মুখ্যমন্ত্রীর কানে যেতে বেশি সময় লাগেনি। উদ্বোধনের দিনই মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, এই স্কাই ওয়াক পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব মন্দির কর্তৃপক্ষকে নিতে হবে। নোংরা করলে জরিমানার কথাও বলে দিয়েছিলেন মমতা। কালী পুজো, জগদ্ধাত্রী পুজো মিটতেই এ বার শহরের সৌন্দর্যায়ন বজায় রাখতে পান-গুটখার পিক ফেলায় কড়া ব্যবস্থা নিতে চলেছে সরকার। মঙ্গলবার বিকেলে নবান্নে এই সংক্রান্ত একটি জরুরি বৈঠক ডেকেছেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্য সচিব, পুর সচিব-সহ সরকারের একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিক থাকবেন এই বৈঠকে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার বলেন, সীমিত আর্থিক ক্ষমতার মধ্যে তাঁর সরকার চেষ্টা করেছে শহরকে সুন্দর রাখার। সে গঙ্গাতীরের সৌন্দ্রর্যায়নই হোক বা রাস্তা-ঘাট আলো দিয়ে সাজানো। নিন্দুকরা নীল-সাদা রঙ নিয়ে সমালোচনা করলেও খুব একটা পাত্তা দেননি দিদি। কলকাতার ‘আইডেন্টিটি কালার’ হিসেবে নীল-সাদা এখন সবারই জানা। মুখ্যমন্ত্রী চান, শহরটা যাতে পরিস্কার থাকে।
কে শোনে কার কার কথা! কিন্তু তা বললে আর হবে না। মানুষ সচেতন না হলে প্রশাসনের কাজ জনমানসে সচেতনতা বাড়ানো। আর সে কাজেই এ বার জোর কদমে নামছে সরকার।
জানা গিয়েছে, পান-গুটখার পিক থেকে শহরকে বাঁচাতে একাধিক কর্মসূচি নেওয়া হবে সরকারের তরফে। ইতিমধ্যেই দক্ষিণেশ্বর মন্দির কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজে যাকেই দেখা যাবে পিক ফেলতে তাকেই ধরে পরিস্কার করানো হবে। নেওয়া হবে জরিমানাও। সরকারও কড়া হাতে রাজ্যের সর্বত্র এই ব্যবস্থা নিতে বদ্ধ পরিকর। নবান্ন সূত্রে খবর, পুলিশ, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাকে দিয়ে সচেতনতামূলক প্রচারের পাশাপাশি, পান-গুটখার পিক ফেললে ধরপাকড়ও হবে। জরিমানা তো বটেই যেতে হতে পারে জেল পর্যন্ত।
কলকাতা কর্পোরেশনের মেয়র যখন সুব্রত মুখোপাধ্যায়, তখন একবার মৌলালি দিয়ে যাওয়ার সময় দেখতে পান, এক ব্যক্তি প্রকাশ্যেই রাস্তার ধারে প্রস্রাব করছেন। গাড়ি থেকে নেমে কড়া ধমক দেন সুব্রতবাবু। কিন্তু এটাতো সিস্টেম নয়। অনেকের মতে, এই নোংরা হওয়া নিয়ে সরকারের মধ্যে একটা বিরক্ত ছিলই। এখন দিদি চান গোটা ব্যাপারটাকে একটা শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে।