শেষ আপডেট: 5 February 2020 09:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এনপিআর, এনআরসি এবং সিএএ নিয়ে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের একটা অংশ অন্তর্ঘাত করার চেষ্টা করছে বলে প্রকাশ্যে অভিযোগ তুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
বুধবার কৃষ্ণনগরের কর্মিসভায় যোগ দিয়েছিলেন মমতা। সেখানে তিনি বলেন, “রাজ্য সরকারের সব কর্মচারী আমাদের নয়। কেউ কেউ সিপিএম, কংগ্রেসের আছে। তারা একটা ফলস কাগজ তৈরি করেছে।” এরপরেই জনগণকে সতর্ক করে বলেন, “বাংলার সরকারের নাম করে কেউ যদি আপনাদের কাছে গিয়ে তথ্য জানতে চায়, কেউ কোনও তথ্য দেবেন না। আমি বলে গেলাম আপনাদের।”
মুখ্যমন্ত্রীর এই কথার প্রতিক্রিয়ায় বিজেপির এক মুখপাত্র বলেন, “এর মানে তো এই যে, নিজের সরকারের উপর কোনও নিয়ন্ত্রণই নেই মুখ্যমন্ত্রীর। সেটাই উনি আবার প্রকাশ্য সভায় দাঁড়িয়ে বলছেন! অবাক করার মতো ঘটনা।”
এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আগে আমি ভেবেছিলাম এনপিআর মানে সেনসাস। ওমা! পরে দেখি অন্য সব কলকাঠি করেছে। আমি তখনই বলে দিয়েছি এসব বাংলায় হবে না।” তাঁর কথায়, “এখন বলছে বাবা-মায়ের জন্ম সার্টিফিকেট না দেখালেও চলবে। কিন্তু খবরদার ওই ফাঁদে পা দেবেন না। ওদের কথায় ভুলবেন না। সার্টিফিকেট না দেখাতে পারলেই আপনার নাম লিস্ট থেকে ঘ্যাচাং ফু। মানে ঘ্যাচ করে কেটে বাদ দিয়ে দেবে।”
কর্মসংস্থান, বেকারত্ব, অর্থনীতি, বেসরকারিকরণ—একাধিক ইস্যুতে এদিন কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন মমতা। বলেন, “ভাত দেওয়ার মুরোদ নেই শুধু বড় বড় কথা। ভাত দেবে না এনআরসি, এনপিআর দেবে। ভাত দেবে না আর শুধু ক্যা ক্যা করে ডাকবে।” বাবা-মায়ের জন্ম সার্টিফিকেট নিয়ে গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান দিদি। বলেন, “আগে তোমার বাবা-মায়ের সার্টিফিকেট জোগার করো তারপর সাধারণ মানুষের থেকে সার্টিফিকেট চাইবে।”
সংখ্যাগরিষ্ঠতার জেরে সংসদে বিজেপি যা খুশি বিল আনছে বলে অভিযোগ করেন মমতা। তিনি বলেন, “আগে বিল আনার আগে ৭২ ঘণ্টা সময় পাওয়া যেত। আর এখন রাত ১১টায় বিল দিয়ে বলছে পরের দিন সকাল ১১টায় আলোচনা। তার মধ্যে মাথা-মুণ্ডু কী আছে কেউ জানে না। কখন যে কার পিছনে বাম্বু বাগান চলে যাবে কেউ বুঝতে পারবেন না।”
নদিয়া জেলায় শাসকদলের কোন্দলের কথা সর্বজনবিদিত। ব্লকে ব্লকে একাধিক গোষ্ঠীতে বিদীর্ণ নদিয়ার তৃণমূল।। এদিন সে ব্যাপারেও নেতাদের সতর্ক করে দেন মমতা। বলেন, “যৌথ নেতৃত্বে চলতে হবে। নেতা একটাই, সেটা জোড়াফুল। এর বাইরে চঞ্চল বড় না রত্না বড় এসব করলে আমি বরদাস্ত করব না।” তবে দিদি এও বলেন, সিপিএম, কংগ্রেস, বিজেপি তৃণমূল কর্মীদের নামে কিছু বললেই তিনি তা বিশ্বাস করবেন না। কর্মিসভায় তিনি বলেন, “আমি সব কিছু ক্রস চেক করি। তারপর যা করার করি। আমার কর্মীদের আমি ভালবাসব, আশীর্বাদ করব আবার ভুল করলে ভড়ও মারব। ওদের কথায় কিছু করব না।”