গণভোট চাইনি, প্রধানমন্ত্রী হস্তক্ষেপ করুন: নাগরিকত্ব আইন প্রশ্নে মমতা
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুরো চব্বিশ ঘণ্টাও কাটল না। নাগরিকত্ব আইন প্রশ্নে রাষ্ট্রপুঞ্জের নজরদারিতে গণভোটের দাবি থেকে সরে এলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বললেন, আমি ঠিক গণভোটের কথা বলিনি। বলেছি, নাগরিকত্ব আইন প্রণয়ন করা ঠিক হয়েছে কিনা তা নিয়ে জনমত নেওয়া
শেষ আপডেট: 20 December 2019 09:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুরো চব্বিশ ঘণ্টাও কাটল না। নাগরিকত্ব আইন প্রশ্নে রাষ্ট্রপুঞ্জের নজরদারিতে গণভোটের দাবি থেকে সরে এলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বললেন, আমি ঠিক গণভোটের কথা বলিনি। বলেছি, নাগরিকত্ব আইন প্রণয়ন করা ঠিক হয়েছে কিনা তা নিয়ে জনমত নেওয়া হোক। পাশাপাশি মমতা এও বলেন, “
দেশ জুড়ে এই যে প্রতিবাদের আগুন জ্বলছে, তা থামানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী হস্তক্ষেপ করুন। তাঁর কাছে আবেদন করছি, নাগরিকত্ব আইন প্রত্যাহার করে নিন”
।
বৃহস্পতিবার ধর্মতলার সভায় দাঁড়িয়ে দিদি বলেছিলেন, নাগরিকত্ব আইনের পক্ষে ক’
জন রয়েছেন আর বিপক্ষেই বা ক’
জন তা জানতে গণভোট করা হোক। রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার কমিশনের মতো নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠানের নজরদারিতে হোক সেই নির্বাচন।
মমতার এই প্রস্তাবই হাতিয়ার করে নেয় বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের মুখপাত্ররা বলেন, একজন নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী কী ভাবে একথা বলেন?
এ তো দেশের গণতন্ত্রের প্রতি অনাস্থা প্রকাশ। পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপালও মুখ্যমন্ত্রীর তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি এও বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতি করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
গণভোটের দাবি তোলা যে ঠিক হয়নি তা তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব গতকাল বিকেলেই বুঝতে পারেন। তাই দলীয় মুখপাত্রদের এ ব্যাপারে সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুলতে নিষেধ করা হয়। অবশেষে আজ ব্যাখ্যা দেন মুখ্যমন্ত্রী।
শুক্রবার দুপুরে তপসিয়ায় তৃণমূল ভবনে দলের কোর কমিটির বৈঠক ডেকেছিলেন দিদি। তার পর সাংবাদিক বৈঠকে গণভোট সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “
আমি বলেছি নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে মানুষের মতামত নেওয়া হোক। রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার কমিশনের কথা যেমন বলেছি তেমন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের কথাও বলেছি।”
তিনি এও বলেন, গণভোটের ইংরেজি প্রতিশব্দটা কিন্তু বলিনি। বার বার বলছি, জনমত নেওয়ার কথা বোঝাতে চেয়েছি মাত্র। আমি ভাত আর আমি ভাত খাই এক ব্যাপার নয়।
মুখ্যমন্ত্রীকে এদিন রাজ্যপালের মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। তাতে দৃশ্যত বিরক্ত হয়ে দিদি বলেন, “
ছাড়ুন তো! এক কথা কতবার বলব!”
সন্দেহ নেই সমূহ সমালোচনার আশঙ্কা করে এ ব্যাপারে ডিগবাজি খেল তৃণমূল। তবে এর পরেও বিজেপি বিষয়টি ছাড়তে নারাজ। রাজ্য বিজেপির মুখপাত্র সায়ন্তন বসু বলেন, পাকিস্তান যে ধরনের দাবি জানায় মুখ্যমন্ত্রী সেরকম কথা বলছিলেন। আসলে তোষণের রাজনীতি তৃণমূলের মজ্জায় ঢুকে গিয়েছে। ভিতর থেকে সেই মর্মেই কথা বেরিয়ে আসে। কিন্তু ওরা বুঝতে পেরেছে, গণভোটের দাবি তোলায় শুধু বাংলা নয় গোটা দেশের সব ধর্ম, জাতির মানুষ তৃণমূলের উপর ক্ষেপে গিয়েছে। কারণ, দেশের গণতন্ত্রের অপমান করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই ভয় পেয়েই পিছু হটল তৃণমূল।