দ্য ওয়াল ব্যুরো: গতবার একুশে জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্লোগান দিয়েছিলেন, ‘বিয়াল্লিশে বিয়াল্লিশ।’ লোকসভা ভোট হয়ে গিয়েছে। বাইশে থামতে হয়েছে তৃণমূলকে। তরতরিয়ে বেড়েছে বিজেপি। কিন্তু এই ভোটকে ‘চিটিংবাজির ভোট’ বলে তোপ দাগলেন তৃণমূলনেত্রী। সেই সঙ্গে ঠিক করে দিলেন এ বার একুশে জুলাইয়ের স্লোগানও।
মঙ্গলবার নজরুল মঞ্চে রাজ্যের সব পুরসভার তৃণমূল কাউনিলরদের নিয়ে বৈঠক ডেকেছিলেন মমতা। সেই বৈঠকেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এই ইলেকশন চিটিংবাজির ইলেকশন হয়েছে। আগামী দিনে সব বেরোবে।” তাঁর কথায়, “এ বার একুশে জুলাইয়ের স্লোগান একটাই, গণতন্ত্র ফিরিয়ে দাও- মেশিন নয় ব্যালট দাও।”
মমতা এ দিন স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ব্যালটে ভোট করানোর দাবিতে জোরদার আন্দোলন শুরু করবে বাংলার শাসক দল। এবং তার শুরুটা হবে একুশে জুলাইয়ের ধর্মতলার মঞ্চ থেকেই।
কাউন্সিলরদের উদ্দেশে মমতা বলেন, “আপনারা চিন্তা করবেন না। আমরাই জিতব।” লোকসভা ভোট যখন চলছে, তখন থেকেই ইভিএম নিয়ে সরব মমতা। ভোট শেষ হওয়ার পর দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে দিদির নির্দেশ ছিল, “স্ট্রং রুম পাহারা দিন। দরকার হলে বাড়ি থেকে মুড়ি-ঘুঘনি বানিয়ে নিয়ে গিয়ে ক্যাম্প করে বসুন। ওরা (পড়ুন বিজেপি) কিন্তু ডেঞ্জারাস পার্টি। ইভিএম বদলে দিতে পারে।” এ দিনও মমতা বলেন, “৩০০টির বেশি জায়গায় মেশিন প্রোগ্রামিং করা ছিল। আগে ১০০ শতাংশ মক পোল হতো। এ বার দুই শতাংশ হয়েছে। বাকি ৯৮ শতাংশের মধ্যে ৯৫ শতাংশে প্রোগ্রামিং করা ছিল না কে বলতে পারে!” তৃণমূলনেত্রী আরও বলেন, “আমরা আগে বুঝি। বাকিরাও কয়েকদিন বাদে বলবে।”
ইভিএম থেকে ব্যালটে ফেরা নিয়ে মমতার বক্তব্য প্রসঙ্গে রাজ্য বিজেপি-র অন্যতম সাধারণ সম্পাদক বলেন, “উনি ব্যালটের কথা বলে চুরির রাস্তায় হাঁটতে চাইছেন। পঞ্চায়েতে অত করেও ঠেকাতে পারেননি। শেষে গণনা কেন্দ্রে ব্যালট পেপারে আগুন লাগাতে হয়েছিল। আগামী দিনেও পারবেন না। আমরা লড়ে আটকাব।”