দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ে জরুরি বৈঠক ডাকলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় নবান্ন সভাঘরে এই বৈঠক ডেকেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
সূত্রের খবর, আজ বিকেল ৫টায় নবান্ন সভাঘরে এই বৈঠকে রাজ্যে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের ফলে তৈরি হওয়া পরিস্থিতি মোকাবিলায় কী কী পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে তা নিয়ে আলোচনা হবে। এই বৈঠকে কলকাতার সব বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকদের আসতে বলা হয়েছে। তাদেরও বেশ কিছু নির্দেশ দিতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী।
এর আগে স্বাস্থ্য ভবনের কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক হলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারদের সঙ্গে বৈঠক করেননি মমতা। কিন্তু সম্প্রতি কলকাতায় প্রথম করোনা আক্রান্তের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। তারপরেই আরও নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। সেই কারণেই এই বৈঠক ডাকা হয়েছে বলে নবান্ন সূত্রে খবর।
নবান্নের এক উচ্চপদস্থ আমলার ছেলে সম্প্রতি ইংল্যান্ড থেকে ফেরার পরে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁর বাবা-মার শরীরে যদিও এই ভাইরাসের জীবাণু পাওয়া যায়নি। কিন্তু তবুও এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ মমতা। গতকাল এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, এই ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ বরদাস্ত করা হবে না। সাধারণ মানুষ যেন সরকারের কাজে সহযোগিতা করেন। নইলে কড়া ব্যবস্থা নিতে সরকার বাধ্য হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
এর মধ্যেই একাধিক ব্যবস্থা নিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর। কলকাতায় যেখানে সেখানে আইসোলেশন ওয়ার্ড রয়েছে, সেখানে ছয় সদস্যের মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে। এই টিমে একজন শিশুরোগ, একজন ফুসফুস, একজন মেডিসিন, একজন ইএনটি ও একজন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ থাকবে বলে জানা গিয়েছে। এছাড়াও একজন মাইক্রোবায়োলজিস্ট থাকবেন। আইসোলেশনের জন্য আলাদা সিসিইউ করা হচ্ছে। সব মেডিক্যাল কলেজে আলাদা করে ফিভার ক্লিনিক করা হচ্ছে।
এই সব ব্যবস্থা সরকারি হাসপাতালের জন্য হলেও বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়গনস্টিকস সেন্টারগুলিকেও হয়তো এর আওতায় আনতে চান মুখ্যমন্ত্রী। যত বেশি সংখ্যক ইউনিট খোলা সম্ভব হবে তত বেশি সংখ্যক মানুষের পরীক্ষা ও চিকিৎসার সুবিধা হবে। তার জন্যই হয়তো তাদের বৈঠকে ডেকেছেন মমতা।