দ্য ওয়াল ব্যুরো: বৃহস্পতিবার সকালেই সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে ‘ইনসাফ’ চেয়েছিলেন কোন্নগর হীরালাল পাল কলেজে তৃণমূলের হাতে মার খাওয়া অধ্যাপক সুব্রত চট্টোপাধ্যায়। বেলা গড়াতে না গড়াতেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফোন গেল আক্রান্ত অধ্যাপকের কাছে।
সুব্রতবাবু জানিয়েছেন, "ফোনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমি আপনার পাশে আছি। আপনি কোনও চিন্তা করবেন না। দোষী দুই ছাত্রকে বের করে দেওয়া হয়েছে।" মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে তিনি খানিকটা আশ্বস্ত বলে জানিয়েছেন আক্রান্ত অধ্যাপক। বলেন, "আমি কলেজ যাব। ভয় পাই না। আমি বিচার চাই। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন তিনি পাশে আছেন। প্রয়োজন হলে ফোন করতে।"
এর মধ্যেই আবার কলেজে পৌঁছে যান তৃণমূলের হুগলি জেলার সভাপতি দিলীপ যাদব এবং উত্তরপাড়ার বিধায়ক প্রবীর ঘোষাল। কলেজের অধ্যক্ষের ঘরে ঢুকে তাঁর পায়ে প্রণাম ঠুকে দেন। হতভম্ব হয়ে তাঁকে বুকে জড়িয়ে নেন অধ্যক্ষ। দিলীপবাবু তাঁকে জানান, “কোনও অন্যায় বরদাস্ত করা হবে না। যে হেতু আমার দলের ছাত্র সংগঠনের নাম জড়িয়েছে, আমি তাই দেখা করতে এসেছি।” জবাবে অধ্যক্ষ বলেন, “আপনার বার্তা আমি আক্রান্ত অধ্যাপককে জানিয়ে দেব।” গোটা ঘটনার জন্য দুঃখপ্রকাশ করেন দিলীপ যাদব।
যে দু’জনকে বুধবার দেখা গিয়েছিল অধ্যাপক পেটাতে, সেই সন্দীপ পাল এবং বিজয় সরকারকে গ্রেফতার করেছে উত্তরপাড়া থানার পুলিশ। ধৃতদের বিরুদ্ধে ৩৪১, ৩২৬, ৫০৬ এবং ৩৪ ধারায় মামলা রুজু করেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে ধৃতদের শ্রীরামপুর আদালতে তোলা হবে।
জানা গিয়েছে বিজয়ের বাড়ি হাওড়ার লিলুয়ায়। কলেজ থেকে পাশ করে বেরিয়ে গিয়েছেন। তবু নাকি মায়া কাটাতে পারেননি। নিয়ম করে কলেজ আসেন। সন্দীপ কোন্নগর পূর্ব পারের ছেলে। তিনিও তাই। লোকসভার ভোট প্রচার থেকে কল্যাণ বন্দ্যোপাধায় জেতার পর সম্বর্ধনা অনুষ্ঠান, সবেতেই সন্দীপ, বিজয়ের অতি সক্রিয়তা দেখা গিয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর ফোন এবং শাসক নেতাদের এই ভূমিকাকে ইতিবাচক বলেই মনে করছেন অনেকে। তাঁদের মতে, আগে যা হয়েছে, হয়েছে। এখন উপর তলা থেকে এই ভূমিকা নিলে নিচু তলাতেও বার্তা যাবে। ফলে শিক্ষাঙ্গনে অরাজকতা বন্ধ হবে বলেই আশাবাদী অনেকে।