দ্য ওয়াল ব্যুরো: লোকসভা ভোটের আগে থেকেই তিনি বলছিলেন, ইভিএমে কারচুপি করতে পারে বিজেপি। শনিবার সেই অভিযোগ নিয়ে আর কোনও রাখঢাক রাখলেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্টতই বলেন, “আমার নিজের ধারনা একটা প্রোগ্রামিং করা ছিল। ভোটের আগে থেকেই আমার কাছে খবর আসছিল। কিন্তু আমি কী করব? ইভিএম তো ভেঙে দিতে পারি না”।
এখানেই থামেননি মমতা। বিষয়টি আরও ব্যাখ্যা করে বলেন, “যেখানে যেখানে এক লক্ষ ভোটের ব্যবধানে তৃণমূল হেরেছে, সেখানে আমরা হেরেছি বলে মনে করি না। ওখানেই সেটিং হয়েছে। সেই কারণে দেখুন না বিজেপি ১ লাখ ভোটের বেশি ব্যবধানে কটা আসনে জিতেছে?” এবং এর পরই বিস্ফোরক অভিযোগটি করেন দিদি। তিনি বলেন, “আমার দৃঢ় বিশ্বাস, এর মধ্যে বাইরের হাত রয়েছে। দেশের স্বার্থে সেটা বললাম না”।
বস্তুত ইভিএমে যে কারচুপি হতে পারে সে ব্যাপারে কংগ্রেস সব ২২ টি বিরোধী দলই আশঙ্কা প্রকাশ করছিল। সে জন্য ভিভিপ্যাটের গণনা আগে করার দাবি জানিয়েছিল। তবে ভোটের পর কোথাও কোনও ভিভিপ্যাটের গণনা নিয়ে সমস্যা হয়নি। তাই কংগ্রেসও আর কমিশনের বিরুদ্ধে এ ব্যাপারে মুখ খোলেনি। বাকিরাও নয়। সবাই ভোটের ফলাফলকে মেনে নিয়েছে।
কিন্তু একমাত্র মমতাই তাঁর অবস্থানে অটল রইলেন। দিদি-র কথায়, কংগ্রেস কখনও কখনও সারেন্ডার করে দেয়। কিন্তু বাকিরা ভয় পেলেও আমি ভয় পাই না। ওরা যে সেটিং করেছিল তা ওদের কথাতেই প্রমাণিত। নইলে বাংলায় প্রচারে এসে কী করে বলেন ৩০০ টা আসন পাব। কী করে বলে ২৩টা আসনে জিতব! সেটিং না করলে সম্ভব?
যদিও মমতার এ কথা শুনে বিজেপি নেতা মুকুল রায় বলেন, “মমতা জানতেন এ বার বহু আসনে তৃণমূল হেরে ভূত হবে। তাই আগে থেকেই ইভিএমের কাঁদুনি গাইছিলেন”। তাঁর কথায়, “আমি তো ভেবেছিলাম, কাউন্টিংয়ের দিনই বলবেন ইভিএমে সেটিং ছিল। তার পর বলবেন সুপ্রিম কোর্টে যাব। এ কথা বলতে ৪৮ ঘন্টা দেরি করলেন দেখেই অবাক হচ্ছি”।