দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভাষা নিয়ে তাঁর কখনই জড়তা নেই। বাংলা, হিন্দি, ইংরাজি বলে চলেন নিজস্ব স্টাইলে। বাংলায় ভোট প্রচার শুরুর আগে বিশাখাপত্তনমের সমুদ্র সৈকতে চন্দ্রবাবু নায়ডুর আমন্ত্রণে সমাবেশে গিয়ে বক্তৃতার শুরুটা করেছিলেন তেলুগু ভাষাতেই। আর বৃহস্পতিবার দুপুরে ভাটপাড়ায় জনসভা করতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শোনালেন সংস্কৃত শ্লোক। শোনালেন দুই গদ্দারের গল্প। তার আগে অবশ্য বলে নেন, ভুল বুঝবেন না।
নাম না করে মুকুল রায় এবং অর্জুন সিংকে ফের একবার গদ্দার বলে তোপ দাগেন তৃণমূল নেত্রী। তারপরেই গল্প শোনাতে শুরু করেন। ভাটপাড়ায় বহু সংস্কৃত পণ্ডিতের বসবাস। এ দিন মুখ্যমন্ত্রীর সভাতেও গিয়েছিলেন তাঁরা। তাঁদের উদ্দেশেই মমতা বলেন, “আমি সংস্কৃত ভালবাসি। কিন্তু ভাল বুঝি না।” এরপরই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “তবে একটা গল্প বলি শুনুন। জানেন তো দুই গদ্দার নিজেদের মধ্যে কথা বলছিল। ছোট গদ্দার বলল, বড় গদ্দার বড় গদ্দার, কী আশ্চর্যং কী আশ্চর্যং, তু হামি বিজেপি-তে গচ্ছামি? সেই শুনে বড় গদ্দার বলল, চুপ্তং করং, চুপ্তং করং, অর্ধাঙ্গ তুমি ও অর্ধাঙ্গ আমি। মানে অর্ধেক তুমি আর আমি ভাগাভাগি করে নেব।”
মমতার মুখে সংস্কৃত শ্লোক শুনেই হাততালিতে ফেটে পড়ে মাঠ। সেই সঙ্গে এ দিন মমতা আরও একবার জানিয়ে দেন অর্জুন সিং তাঁর কাছে লোকসভার টিকিট চেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি দেননি। বুধবার দ্য ওয়াল-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অর্জুন চ্যালেঞ্জের সুরে বলেছিলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমাণ দিতে পারবেন, আমি টিকিট চেয়েছিলাম?” অর্জুনের গড়ে দাঁড়িয়ে ফের একবার সে কথা বললেন দিদি। সেই সঙ্গে হুঁশিয়ারির সুরে তৃণমূল নেত্রী বললেন, “এখানে লাটসাহেবী চলবে না।” ব্যারাকপুর লোকসভার পাশাপাশি ভাটপাড়ার উপনির্বাচনের প্রচারও সেরে নেন তিনি। এ বার সেখানে বিজেপি প্রার্থী করেছে অর্জুনের ছেলে পবনকে। মঞ্চে দাঁড়িয়ে মমতা জনতার উদ্দেশে আবেদন করে বলেন, “বাপ-ব্যাটার জামানত বাজেয়াপ্ত করে দিন।”