দ্য ওয়াল ব্যুরো: লোকসভা ভোটে বিজেপি আঠারোটি আসন জেতার পরই সাংবাদিক বৈঠক করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, টোটালটাই হিন্দু-মুসলমান হয়ে গেছে। তার পর বলেছিলেন, যে গরু দুধ দেয় তার লাথিও খাব।
তৃণমূলের বিরুদ্ধে সংখ্যালঘু তোষণ নিয়ে যে যাই বলুন, দিদি এতটাই পষ্টাপষ্টি। বুধবারও তাই করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন উত্তরবঙ্গের রায়গঞ্জে জনসভা ছিল মমতা। সেই মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি পরিষ্কার বলেন, বাংলায় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দিতে পারে একমাত্র তৃণমূল কংগ্রেসই। তাঁর কথায়, “ছোটবেলায় তিনটে চিমটির কথা বলতাম জানেন তো। রাম চিমটি, শ্যামটি, আর দে চিমটি। এরা মুসলিমদের দেয় দে চিমটি, দলিতদের দেয় রাম চিমটি, তফসিলিদের দেয় শ্যাম চিমটি। এরা সবাইকে কোনও না কোনও চিমটি দেয়”।
এদিন সংখ্যালঘুদের উদ্দেশে মমতা আরও বলেন, আপনাদের মধ্যে থেকেও বিজেপি কিছু কিছু লোককে ভাঙানোর চেষ্টা করছে। হায়দরাবাদ থেকে নেতা, এতা, ওতা এনে ভাঙানোর চেষ্টা করছে। সে ব্যাপারেও সতর্ক থাকবেন।
অনেকের মতে, বাংলায় ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ধারাবাহিক ভাবে সংখ্যালঘু ভোট বাক্সকে সযত্নে লালিত করার চেষ্টা করেছে বর্তমান শাসক দল। ইমামদের ভাতা থেকে শুরু করে সংখ্যালঘুদের রাজনৈতিক ক্ষমতায়ণের চেষ্টাও করেছে। আরাবুল ইসলাম, সওকত মোল্লার মতো দোর্দণ্ডপ্রতাপ সংখ্যালঘু নেতাও তৈরি হয়েছে। তবে এও বাস্তব যে, উত্তরবঙ্গে সংখ্যালঘু ভোটের একটা বড় অংশ তৃণমূলের থেকে এখনও মুখ ফিরিয়ে রয়েছে।
২০১৬ সালের ভোটে মালদহে একটি আসনও জিততে পারেনি তৃণমূল। মুর্শিদাবাদেও সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন বাম কংগ্রেসই জিতেছে। একই ভাবে উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত বেশ কিছু আসনে বাম, কংগ্রেসের জনভিত্তিই বেশি। লোকসভা ভোটে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে তৃণমূল মুর্শিদাবাদে দুটি আসন জিতলেও মালদহে খালি হাতে ফিরতে হয়েছে। কিন্তু শুভেন্দু এখন আর সেখানে পর্যবেক্ষক নেই। দলও ছেড়ে দিয়েছেন। অনেকে মনে করছেন, এই দুই জেলা ও উত্তর দিনাজপুরে ফের বিপন্ন হয়ে পড়েছে তৃণমূলের সংগঠন। বরং কংগ্রেস ও বামেদের সভায় ভিড় হচ্ছে।
পর্যবেক্ষকদের একাংশের কথায়, বাংলায় এবার ভোটে তীক্ষ্ণ মেরুকরণ যে হতে পারে সেই সম্ভাবনার কথা অনেক আগে থেকেই বলা হচ্ছে। এবারের ভোটে মূল দুটো উপাদান—এক দশ বছরের সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা, দুই- ধর্মীয় মেরুকরণ। বিজেপি জয় শ্রীরাম স্লোগানে ভর দিয়ে যেমন সেই রাজনীতিতে ধার দিচ্ছে, তেমনই মমতা খোলাখুলিই বলছেন, সংখ্যালঘুদের একমাত্র নিরাপত্তা দিতে পারে তৃণমূলই।