দ্য ওয়াল ব্যুরো: দলে যে দুর্নীতি ভালই বাসা বেঁধেছে, ‘চোর ছ্যাঁচড়ে’ দল ভরে গিয়েছে, তা প্রকারন্তরে স্বীকার করে নিলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
মঙ্গলবার নজরুল মঞ্চে রাজ্যের সমস্ত পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলরদের বৈঠকে দিদি বলেন, “অর্ধেক লোক সারা বছর কাজ করে না। শুধু বাড়ি আর প্রোমোটিং করে।” একই সঙ্গে মমতা বলেন, “অডিটে ধরা পড়লেই অন্য রাজনৈতিক দলে চলে যাচ্ছে। ভাবছে পার পেয়ে যাবে। ওখানে যাওয়া মানে আরও ফেঁসে গেলেন!” প্রায় প্রতিদিনই তৃণমূল ছেড়ে বিজেপি-তে যাওয়ার হিড়িক বাড়ছে। ইতিমধ্যেই ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের একাধিক পুরসভা তৃণমূলের হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে বিজেপি। নেত্রী এ দিন বলেন, “যাঁরা যাওয়ার, তাড়াতাড়ি চলে যান। একজন গেলে আমি ৫০০ জন তৈরি করব। তবু চোরেদের দলে রাখব না।”
দলত্যাগীদের যাতে আর ফিরিয়ে নেওয়া না হয়, সে ব্যাপারেও রাজ্য নেতাদের কড়া বার্তা দেন মমতা। নজরুল মঞ্চের সভা থেকে বলেন, “ববি, বক্সি, তোমাদের বলছি। যারা চলে যাচ্ছে, তারা যদি আবার হাতে পায়ে ধরে ফিরতে চায়, যেন না নেওয়া হয়। জাস্ট স্টপ ইট।” তবে দলের পুরনোকর্মীরা ফিরতে চাইলে যে দিদি তাঁদের দলে নেবেন তাও স্পষ্ট করে দেন এ দিন। বলেন, “আমার পুরনো কর্মীরা যদি ফিরতে যায়, তাদের অবশ্যই নিতে হবে।” দলের হুগলি জেলার নেতাদের বৈঠকে মমতা বলেছিলেন, “কই আমার পুরনো দিনের একজনকেও তো আমি দেখতে পাচ্ছি না! তারা কোথায়! তাদের ফিরিয়ে আনুন।” সেই কর্মীদের প্রতি যে তিনি দরাজ, তা এ দিনও স্পষ্ট করলেন মমতা।
নিচু তলায় পুরপ্রতিনিধিদের কাজ নিয়ে যে জনমানসে অসন্তোষ রয়েছে, তা অনেক দিন আগে থেকেই টের পাওয়া যাচ্ছিল। পর্যবেক্ষকদের মতে, শহরাঞ্চলের মতো গ্রামাঞ্চলেও ছবিটা এক। সেখানে পঞ্চায়েতের নেতাদের দুর্নীতি রয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, পঞ্চায়েত ভোটে যদি ও ভাবে ভোট না হতো, তাহলে গত বছরই চাদরটা সরে যেত। এ দিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি তো খবর পাচ্ছি, কেউ কেউ পুকুর, পার্ক সব নিজের প্রপার্টি করে নিয়েছে। মনে রাখবেন এদের ছাড়া হবে না।”
এ দিনের বৈঠকে মমতার বক্তব্য নিয়ে অবশ্য টিপ্পনি কাটতে ছাড়েনি বিজেপি। দলের এক শীর্ষ নেতা বলেন, "দিদি যদি এখন চোর তাড়াতে শুরু করেন তাহলে গোটা দলটাই উঠে যাবে, কিন্তু কাউন্সিলররা যদি এখন বলেন, আমাদের বলার আগে নিজের পরিবারটা আগে দেখুন! কালীঘাটে যাঁরা সম্পত্তি করেছে তাদে কী হবে? তখন দিদি কোথায় যাবেন?"