দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোট ঘোষণার আগে তাঁর শেষ বাজেটে অঢেল প্রকল্পের ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ৪৬ হাজার কিলোমিটার রাস্তা থেকে ডজন খানেক ফ্লাইওভার—সেই তালিকা বেশ লম্বা।
সোমবার বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী জানালেন, এদিন বিকেলে ও মঙ্গলবার ‘মাটিতীর্থ’ থেকে মোট ১৯ টি প্রকল্পের সূচনা ও উদ্বোধন করবেন তিনি। এই সব প্রকল্প খাতে সম্ভাব্য বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ৭২ হাজার ২০০ কোটি টাকা। এবং সেই গুলি রূপায়ণ হলে বাংলায় ৩ লক্ষ ২৯ হাজার ৫০০ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
মুখ্য যে প্রকল্পগুলির কথা মমতা জানিয়েছেন সেগুলি হল—
• কলকাতায় চর্মনগরীতে ১০২ কোটি খরচ করে কমন এফ্লুয়েন্ট প্লান্ট।
• হাবড়ায় মেগা পাওয়ারলুম ক্লাস্টার। বানিপুরে ১০ একর এবং অশোকনগরে ৪০ একর জমিতে ৪০০ কোটি টাকা খরচ করে নির্মিত হবে এই ক্লাস্টার।
• ৭ কোটি টাকা খরচ করে হাওড়ার উদয়নারায়ণপুরে তাঁতের হাট।
• কোচবিহারে ভাওয়াইয়া শিল্পীদের জন্য কমন ফেসিলিটি সেন্টার।
• কোচবিহারে মেখলা ড্রেস তৈরির জন্য কমন ফেসিলিটি সেন্টার। খরচ ৪ হাজার কোটি টাকা।
• বাতাসা, কদমা তৈরির জন্য পূর্ব বর্ধমানে একটি অভিন্ন উৎপাদন কেন্দ্র।
• মালদহের মধুঘাটে সিল্ক পার্ক।
• শিলিগুড়ির ফুলবাড়িতে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক।
• কোচবিহারের মেখলিগঞ্জে মেগা ইন্ডাস্ট্রিয়াল এবং লজিস্টিক্স পার্ক।
• পুরুলিয়ার রঘুনাথপুরে শিল্পশহর।
• দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতায় ফার্মাসিউটিক্যাল পার্ক। বিনিয়োগের পরিমাণ ১৩০০ কোটি টাকা।
• বজবজে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক। বিনিয়োগের পরিমাণ ২ হাজার কোটি টাকা।
• বাঁকুড়ার বড়জোরায় ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক। বিনিয়োগের পরিমাণ ১৫০ কোটি টাকা।
• পশ্চিম মেদিনীপুরে টয় পার্ক। বিনিয়োগের পরিমাণ ১০০ কোটি টাকা।
• হাওড়ার জগদীশপুরে হোসিয়ারি পার্ক। বিনিয়োগের পরিমাণ ১৫০ কোটি টাকা।
• হাওড়ার উনসানিতে টেক্সটাইল পার্ক। বিনিয়োগের পরিমাণ ৫০০ কোটি টাকা।
• জলপাইগুড়ির বিন্নাগুড়িতে শিল্পাঙ্গন পার্ক। বিনিয়োগের পরিমাণ ৪০০ কোটি টাকা।
বাংলায় শিল্প বাণিজ্যের অধঃপতন ও অনগ্রসরতা নিয়ে রবিবার সমালোচনা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেছিলেন, বাংলায় গত দশ বছরে একটা শিল্পও স্থাপন করতে পারেনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। উল্টে যে ইস্পাত কারখানার পত্তনের কথা ছিল, সেখানে রহস্যজনক ভাবে এখনও উৎপাদন শুরু হয়নি। তার পরই এই বড় ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।