পার্শ্বশিক্ষকদের আন্দোলনে যখন ওয়েলিংটনে তুলকালাম, বিধানসভায় ২১০০ নিয়োগের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত কয়েক বছরে পার্শ্বশিক্ষকদের আন্দোলনে একাধিকবার উত্তাল হয়েছে শহর কলকাতা। যাদবপুর এইটবি থেকে শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়ির দিকে ধেয়ে যাওয়া মিছিলকে আটকাতে গিয়ে কী কাণ্ডটাই না হয়েছিল সুলেখা মোড়ে।
শুক্রবার আরও
শেষ আপডেট: 6 February 2021 01:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত কয়েক বছরে পার্শ্বশিক্ষকদের আন্দোলনে একাধিকবার উত্তাল হয়েছে শহর কলকাতা। যাদবপুর এইটবি থেকে শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়ির দিকে ধেয়ে যাওয়া মিছিলকে আটকাতে গিয়ে কী কাণ্ডটাই না হয়েছিল সুলেখা মোড়ে।
শুক্রবার আরও একবার পার্শ্বশিক্ষক তথা প্যারাটিচারদের আন্দোলনে উত্তাল হয় কলকাতা। তারপর দেখা যায় রাজ্য বাজেটে আরও ২১০০ প্যারাটিচার নিয়োগের ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তবে এই ২১০০ প্যারা টিচারের ভাগ রয়েছে। এদিন মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, রাজ্যে অলচিকি ভাষায় ৫০০ টি স্কুল তৈরি হবে। তার জন্য ১৫০০ প্যারাটিচার নিয়োগ হবে। নেপালি, হিন্দি, উর্দু, কামাতাপুরী এবং কুরমালি ভাষার জন্য ১০০টি স্কুল গড়ে তোলা হবে। সেখানে নিয়োগ করা হবে ৩০০ পার্শ্বশিক্ষককে। চা বাগান এলাকায় সাদরী ভাষার জন্য ১০০টি স্কুল নির্মিত হবে। সেখানে নতুন ৩০০ প্যারাটিচার নিয়োগ করা হবে। একইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা, পার্শ্বশিক্ষকদের বছরে ৩ শতাংশ বেতনও বাড়বে।

এদিন যে পার্শ্বশিক্ষকরা আন্দোলনে নামায় ওয়েলিংটনে পুলিশের সঙ্গে খন্ডযুদ্ধ বেঁধে যায় তাঁদের পূর্ণ শিক্ষকের মর্যাদা, বেতনকাঠামো পরিবর্তন, বেতনবৃদ্ধি-সহ একাধিক দাবি রয়েছে। গত ৫০ দিন ধরে সল্টলেকের করুণাময়ীতে বিক্ষোভ অবস্থান চালাচ্ছেন পার্শ্বশিক্ষকদের সংগঠন ‘পার্শ্বশিক্ষক ঐক্যমঞ্চ’। শুক্রবার ছিল তাঁদেরই নবান্ন অভিযান।
সেই কর্মসূচি অনুযায়ী, এদিন বেলা ১২টা নাগাদ সুবোধ মল্লিক স্কোয়ারে জড়ো হন প্রায় হাজার খানেক বিক্ষোভকারী পার্শ্বশিক্ষক। তৈরি ছিল বিশাল পুলিশবাহিনীও। বিক্ষোভকারীদের সেখানেই আটকে দিতে, এস এন ব্যানার্জী রোড ও লেনিন সরণির সংযোগস্থলে ব্যারিকেড তৈরি করে দেয় পুলিশ। আনা হয় জলকামান।
কিন্তু নিজেদের কর্মসূচি নিয়ে অনড় ছিলেন পার্শ্বশিক্ষকরা। এ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে তাদের দফায় দফায় বৈঠক হয়। কিন্তু কোনও সমাধানসূত্র বেরোয়নি!
বিরোধীদের বক্তব্য, পার্শ্বশিক্ষকদের সিভিক টিচার করে রেখে দিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার। শূন্যপদে লোক নিয়োগ না করে প্যারাটিচারের নামে আরও সমস্যা বাড়াচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী।
অনেকের মতে নেপালী, কুরমালি, অলচিকি সহ বিভিন্ন ভাষার স্কুল গড়ে তোলা এবং নতুন প্যারাটিচার নিয়োগের ঘোষণা করে মুখ্যমন্ত্রী আসলে লোকসভায় ধস নামা এলাকার মাটি শক্ত করতে চেয়েছেন।