দ্য ওয়াল ব্যুরো: পালিয়ে গিয়েও শেষরক্ষা হল না। কয়েক দিন গা ঢাকা দিয়ে থাকার পরে মালদহ জেলা থেকে গ্রেফতার করা হল গঙ্গারামপুরে শিক্ষিকা নিগ্রহ ও মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত তৃণমূলের উপপ্রধান অমল সরকারকে। বৃহস্পতিবারই তাঁকে গঙ্গারামপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হতে পারে বলে খবর।
এবিষয়ে গঙ্গারামপুর মহকুমার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গ্রামীণ) ওয়াং জেন ভুটিয়া জানান, গোপন সূত্রের ভিত্তিতে এই ঘটনার মূল অভিযুক্ত নন্দনপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান অমল সরকারকে মালদহের রতনপুর থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযুক্ত অমল সরকার বামনগোলা হয়ে হরিশচন্দ্রপুর যাচ্ছিলেন। তাঁকে এদিন গঙ্গারামপুর মহকুমা আদালতে তোলা হয়েছে এবং ১ দিনের পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানানো হয়েছে। এই ঘটনায় বাকি দু'জনের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। এদিকে আজই এই ঘটনার প্রতিবাদে গঙ্গারামপুরে মিছিল করে বিজেপি। জেলা পুলিশ সুপারের কাছে স্মারকলিপিও জমা দেয় বিজেপির মহিলা মোর্চা।
এই ঘটনার সূত্রপাত গত শুক্রবার। অভিযোগ, ওইদিন দুপুরে পেশায় শিক্ষিকা ও বিজেপি কর্মী স্মৃতিকণা দাস দেখেন, ঘরের পাশে তাঁদের জমির মধ্যে দিয়ে বিরাট চওড়া করে রাস্তা তৈরি করা হচ্ছে। তিনি সেখানে গিয়ে বাধা দেন। এরপরেই নন্দনপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান অমল সরকারের নেতৃত্বে তৃণমূল কর্মীরা তাঁকে লোহার রড দিয়ে মারে। আঘাতের জেরে মাটিতে পড়ে গেলেও তিনি প্রতিবাদ করতে থাকেন। এরপরেই অভিযুক্তরা তার হাত পা বেঁধে ছেঁচড়াতে ছেঁচড়াতে ৩০ ফুট মতো দূরে নিয়ে যায়। সেখানে একটি ঘরে তাঁকে আটকে রাখে। স্মৃতিকণার দিদি সোমা দাস এসে প্রতিবাদ করলে তাঁকেও হাত-পা বেঁধে নিয়ে গিয়ে ওই একই জায়গায় আটকে রাখা হয়। এরপরেই তাঁর ভাইয়ের স্ত্রী ও মাকেও মারা হয় বলে অভিযোগ।
স্মৃতিকণা ও তাঁর দিদি সোমাকে উদ্ধার করে গঙ্গারামপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যান গ্রামবাসীরা। খবর পেয়ে হাসপাতালে যান জেলা বিজেপি সভাপতি বিনয় বর্মন ওহ অন্য বিজেপি নেতা-কর্মীরা। প্রাথমিক চিকিৎসার পরে সোমাকে ওই দিনই হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হলেও রবিবার স্মৃতিকণাকে ছুটি দেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
হাসপাতাল থেকে ফিরেই গঙ্গারামপুর থানায় গিয়ে স্মৃতিকণা লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন নন্দনপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান অমল সরকার-সহ পাঁচজন স্থানীয় তৃণমূল নেতা-কর্মীর নামে। এই ঘটনার পরে অমল সরকারকে বরখাস্ত করে তৃণমূল কংগ্রেস। পরের দিনই গোপাল সরকার ও তপন শীল নামে দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ। কিন্তু তারপরেও মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে গিয়ে এই ঘটনার ভিডিও জমা দিয়ে আসে বিজেপির প্রতিনিধি দল। এই ঘটনায় দ্রুত তদন্তের আবেদন জানানো হয় বিজেপির তরফে। তার কয়েক দিনের মধ্যেই অবশ্য অভিযুক্ত উপপ্রধানকে গ্রেফতার করল পুলিশ।