
শেষ আপডেট: 26 May 2020 11:06
সেনাবাহিনীর পাঁচটি কলাম বাংলায় উদ্ধারকাজ শুরু করেছে গত শনিবার। ওড়িশা সরকার তাদের দমকল বাহিনীর ৩০০ কর্মী এবং বিপর্যয় মোকাবিলার র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স তথা ওডিআরএফ-এর আরও দু’শ কর্মীকে গাড়ি ও সরঞ্জাম দিয়ে পাঠিয়েছে। সেই সঙ্গে এনডিআরএফ-এর ৩৬টি টিম কাজ করছে।
কিন্তু তার পরেও শহর কলকাতা, দক্ষিণ ও উত্তর শহরতলি এবং প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল থেকে পরিষেবার অভাব অভিযোগ মানুষের অসন্তোষ যে প্রকাশ পাচ্ছে তা বাস্তব। ক্ষুব্ধ হয়ে জনতা কোথাও কোথাও পথ অবরোধও করছে। প্রধানমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে এদিন অধীরবাবু আর বলেছেন, বিস্তীর্ণ এলাকা এখনও সমুদ্রের নোনা দলে ডুবে রয়েছে। ফলে পানীয় জলের তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। তা ছাড়া জলের মধ্যে মৃত পশু, মাছ ভেসে বেড়াচ্ছে।
কলকাতার কিছু অঞ্চল সহ বহু জায়গায় এখনও বিদ্যুৎ নেই। একে তীব্র গরম তার উপর বিদ্যুৎ না থাকায় মানুষের নাভিঃশ্বাস উঠেছে। অসুস্থ মানুষের জীবন নিয়ে টানাটানি চলছে।
এ সব থেকে মানুষকে দ্রুত স্বস্তি দিতে আরও বেশি সেনা মোতায়েন জরুরি বলে জানিয়েছেন অধীরবাবু। পরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশেও সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তিনি বলেন, বাংলার প্রশাসন আন্দাজই করতে পারেনি কী পরিমাণ বিপর্যয় হতে চলেছে। তাই প্রস্তুতিও ছিল না। সেটা সরকারের বড় ব্যর্থতা। উল্টে মুখ্যমন্ত্রী কাকদ্বীপে লোক দেখাতে গিয়েছিলেন যে তিনি কত কাজ করছেন? অধীরবাবুর কথায়, যে মানুষগুলো পানীয় জল, বিদ্যুতের অভাবে হাপিত্যেশ করে বসে রয়েছেন তাঁরা মুখ্যমন্ত্রী দেখতে চান না। তাঁরা জল চান, আলো চান। মাথার উপর ছাদ চান। আর মুখ্যমন্ত্রীর কি এ ভাবে ঘুরে বেড়ানো কাজ? তাঁর তো সচিবালয়ের বসে দেখার কাজ কোথায় মানুষের অভাব হচ্ছে, কোথায় ত্রাণ পাঠাতে হবে। এ ব্যাপারে তুলনা টানতে গিয়ে তিনি বলেন, পাশেই তো ওড়িশা রয়েছে। কই ফণীর পর মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়েককে তো এখানে ওখানে লোক দেখানো ঘুরে বেড়াতে হয়নি। তিনি ত্রাণ ও উদ্ধারকাজ এক জায়গায় স্থির হয়ে বসে পরিচালনা করেছেন। আর সেই কারণেই ওড়িশার মানুষের কোনও অভিযোগ নেই। গোটা দুনিয়া নবীনবাবুকে ধন্য ধন্য করছেন।
তৃণমূলের বক্তব্য, এই বিপর্যয়ের পরিস্থিতিতেও বিরোধীরা রাজনীতি করে চলেছেন। মানুষকে উস্কানি দিচ্ছেন তাঁরা। এটা মোটেই দায়িত্বশীল রাজনীতির পরিচয় নয়।