দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য কড়া পদক্ষেপ করল হাওড়ার উলুবেড়িয়া পুরসভা। বেলা বারোটা থেকে পরের দিন সকাল সাতটা পর্যন্ত পুরোপুরি লকডাউন করা হচ্ছে পুর এলাকা। এই সময়ের মধ্যে বিকেল চারটে থেকে তিন ঘণ্টার জন্য শুধুমাত্র মুদিখানা ও ওষুধের দোকান খোলা যাবে বলে ঘোষণা করা হয়েছে। সকালে বাজার ও দোকান খোলার সময় নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। বুধবার থেকে ১৪ দিন এই লকডাউন চলবে।
উলুবেড়িয়া পুর এলকায় প্রশাসনিক বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, পুর এলাকার সমস্ত দোকানপাট সকাল সাতটা থেকে বেলা বারোটা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে। শুধুমাত্র মুদির দোকান, নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস বিক্রি হয় এমন দোকান এবং ওষুধের দোকান খোলা রাখা যাবে বিকেল চারটে থেকে সাতটা পর্যন্ত। এ ছাড়া অন্য কোনও দোকান খোলা রাখা যাবে না। একথা জানিয়েছেন উলুবেড়িয়া পুরসভার প্রশাসক বোর্ডের চেয়ারম্যান অভয় দাস।
মঙ্গলবার বিকেলে উলুবেড়িয়া পুরসভায় স্বাস্থ্য বিভাগে একটা ম্যারাথন বৈঠক হয়। তাতে সামিল করা হয়েছিল পুলিশ এবং সাধারণ প্রশাসনকে। এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন উলুবেড়িয়া পূর্ব কেন্দ্রের বিধায়ক, উলুবেড়িয়ার মহকুমাশাসক, হাওড়া গ্রামীণের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, বাউড়িয়া থানা ও উলুবেড়িয়া থানার পুলিশ কর্তারা। ছিলেন পুরসভার প্রশাসক বোর্ডের কর্তারাও।
পুরসভা সূত্রে খবর, বর্তমানে উলুবেড়িয়া পুর এলাকায় করোনায় সংক্রামিতের সংখ্যা ৩৭। এই পুরসভার শুধুমাত্র ২০ নম্বর ওয়ার্ডটিই এত দিন পর্যন্ত কনটেনমেন্ট জোন হিসাবে ঘোষিত ছিল। পুর প্রশাসক অভয় দাস বলেন, “আমরা পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডকেও কনটেন্টমেন্ট জোন হিসাবে ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এই ওয়ার্ডের দু’টি এলাকাকে কনটেনমেন্ট জোন করা হচ্ছে। ওই ওয়ার্ডের ব্লক ‘এ’ এবং ব্লক ‘সি’ – এই দু’টি এলাকাকে কনটেনমেন্ট জোন করা হবে।” এছাড়া পরে প্রয়োজনে আরও কয়েকটি ওয়ার্ডকে কনটেনমেন্ট জোন হিসাবে ঘোষণা করা হতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন। এ ব্যাপারে তাঁরা জেলা প্রশাসনের কাছে তারা প্রস্তাব পাঠিয়েছেন।
আজ বুধবার থেকেই পুরসভা কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন এলাকায় মাইকে প্রচার শুরু করে দিয়েছে। পাশাপাশি এলাকার লোকজনকে আরও বেশি করে সচেতন করছে। অভয় দাস বলেন, “কোনও ভাবেই করোনা পরিস্থিতিকে হালকা ভাবে নেওয়া হয়নি এবং হবেও না। আমরা এই পরিস্থিতি আরও কড়া হাতে মোকাবিলা করব।”
হাওড়া জেলায় লাফিয়ে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। রাজ্য সরকার প্রকাশিত সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী জেলায় মোট চার হাজার দুশো উনচল্লিশ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে সুস্থ হয়েছেন দুহাজার আটশো আটচল্লিশ জন। জেলার কোভিডে মৃতের সংখ্যা ১৩৪। বর্তমানে এক হাজার দুশো সাতান্ন জন করোনা পজিটিভ রয়েছেন।