দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশজুড়ে লকডাউন শুরু হওয়ার আগে যে রাস্তা ধরেছিল বাঁকুড়ার একটি গ্রাম এখন সেই পথ ধরতে দেখা যাচ্ছে রাজ্যের অন্য গ্রামগুলিতেও। করোনাভাইরাস আটকানোর গুরুত্ব না বুঝে যাঁরা এখনও অকারণ রাস্তাঘাটে বের হচ্ছেন তাঁদের আটকাতেই বিভিন্ন গ্রামে রাস্তার মাঝে বেড়া তুলে দিচ্ছেন স্থানীয়রা।
পুলিশ প্রশাসনের পাশাপাশি গ্রামবাসীরা নিজেরাই করোনাভাইরাসের মোকাবেলায় উদ্যোগী হয়েছেন। ভিন জায়গা থেকে গ্রামে প্রবেশ নিষেধ তাই বিভিন্ন সতর্কতামূলক বার্তা দিয়ে গ্রামে ঢোকার রাস্তায় বাঁশ লাগিয়ে পোস্টার ঝুলিয়ে দিচ্ছেন তাঁরা।
বীরভূমের সিউড়ি শহর লাগোয়া সিউড়ি ২ ব্লকের গাংটে ও সিউড়ি ১ ব্লকের রায়পুর গ্রামে এবার এই পোস্টার দেখা গেল। গাংটে গ্রাম সূত্রে জানা গেছে, রবিবার দুপুরে গ্রামবাসীরা মিলিত ভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে গ্রামের প্রবেশ পথে বাঁশ লাগিয়ে ‘বহিরাগতদের প্রবেশ নিষেধ’ পোস্টার লাগিয়ে দেন। পাশাপাশি পথচলতি মানুষজনকে অযথা আতঙ্কিত না হয়ে বাড়িতে থেকে লকডাউন সার্থক করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। বহিরাগত কেউ গ্রামে ঢুকতে গেলেই গ্রামবাসীরা প্রয়োজন বুঝে পুলিশ ও স্বাস্থ্য দফতরকে সেকথা জানিয়ে দিচ্ছেন। অন্যদিকে রায়পুরের ছবিও মোটের উপরে একই রকম।
উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট মহকুমার বসিরহাট ২ নম্বর ব্লকের মাটিয়া থানার ধান্যকুড়িয়া বাইন পাড়া কার্যত সিল করে দিয়েছেন গ্রামবাসীরা। গ্রামের মূল রাস্তায় বাঁশ লাগিয়ে পোস্টার টাঙিয়ে দিয়েছেন তাঁরা। বহিরাগতদের আটকাতে রাতে গ্রাম পাহারার ব্যবস্থাও তারা করেছে। পাশাপাশি বেশ কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবী যুবক ও কলেজপড়ুয়া এই কাজে যুক্ত হয়েছেন।
বাইরে থেকে সম্প্রতি গ্রামে ফিরেছেন এমন কারও শরীরে করোনাভাইরাসের উপসর্গ দেখা দিলেই তাঁদের দ্রুত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা তাঁরা করছেন এবং হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার জন্য লাগাতার সচেতনতামূলক প্রচার তাঁরা করে চলেছেন।
এই গ্রামে কোভিট-১৯ সংক্রান্ত বিভিন্ন পোস্টার লাগানো হয়েছে স্বাস্থ্য দফতরের পক্ষ থেকে। সেখানে নভেল করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নানা সচেতনতামূলক প্রচার করা হচ্ছে। দিন দুয়েক আগে আকিপুর গ্রামে যে ছবি দেখা গিয়েছিল এখন সেই ছবি দেখা যাচ্ছে ধান্যকুড়িয়ার বাইনপাড়ায়।
ধান্যকুড়িয়া অঞ্চলে বেশ কয়েকটি রাজবাড়ি রয়েছে যেখানে বাইরে থেকে পর্যটকরা ভিড় করতেন। লকডাউনের জেরে সেই সব জায়গা এখন পর্যটকশূন্য। স্বাস্থ্য দফতর যে সব পোস্টার দিয়েছে সেগুলি ফটোকপি করে বাড়িতে বাড়িতে লাগানোর ব্যবস্থা করেছেন গ্রামবাসীরা। বিভিন্ন বাড়ির বাইরের দেওয়ালে এগুলি লাগানো হচ্ছে।