বালুরঘাটে গভীর রাতে কেটে দেওয়া হল রাস্তা, জলঘর পঞ্চায়েতে তালা মেরে বিক্ষোভ
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাতের অন্ধকারে কে বা কারা দক্ষিণ দিনাজপুরের চককাশি থেকে গঙ্গাসাগর যাওয়ার প্রধান রাস্তাটি কেটে দিয়েছে। ফলে সোমবার সকাল থেকে সমস্যার মুখে পড়েন বিস্তীর্ণ এলাকার বেশ কয়েক হাজার মানুষ। রাস্তাটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছিল। বেহা
শেষ আপডেট: 22 June 2020 10:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাতের অন্ধকারে কে বা কারা দক্ষিণ দিনাজপুরের চককাশি থেকে গঙ্গাসাগর যাওয়ার প্রধান রাস্তাটি কেটে দিয়েছে। ফলে সোমবার সকাল থেকে সমস্যার মুখে পড়েন বিস্তীর্ণ এলাকার বেশ কয়েক হাজার মানুষ। রাস্তাটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছিল। বেহাল এই রাস্তার কথা বারে বারে স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে ব্লক প্রশাসনকে জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের।
বালুরঘাট ব্লকের জলঘর গ্রাম পঞ্চায়েতের গঙ্গাসাগর এলাকায় রাস্তাটি কেটে দেওয়ার ফলে চককাশি থেকে গঙ্গাসাগর যাওয়ার পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এই খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় বালুরঘাট থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। সোমবার দুপুরে সেই রাস্তার দাবিতেই জলঘর গ্রাম পঞ্চায়েত অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখান শতাধিক মহিলা। তাঁরা তালা মেরে দেন পঞ্চায়েত অফিসে। তাঁদের অভিযোগ, চককাশি থেকে গঙ্গাসাগর পর্যন্ত প্রায় ১ কিলোমিটার রাস্তা অবিলম্বে পাকা করতে হবে। অবিলম্বে রাস্তা পাকা না হলে আগামী দিনে তাঁরা আরও বড় আন্দোলনে নামার হুমকি দিয়েছেন। পুলিশের হস্তক্ষেপে কয়েক ঘণ্টা পরে স্বাভাবিক হয় পরিস্থিতি। ঘেরাও মুক্ত হন পঞ্চায়েতের কর্মীরা।

জলঘর গ্রামপঞ্চায়েতের প্রধান গোপাল মুর্মু বলেন, “আমরা খবর পেয়েছি। টেন্ডার করে বর্ষার আগেই রাস্তা মেরামত করে ফেলার চেষ্টা করা হবে। যদি পদ্ধতিগত কারণে কোনও ভাবে কাজ শেষ হতে দেরি হয় তাহলে বর্ষার পরে পরেই কাজ শেষ হয়ে যাবে।”
গ্রামের বাসিন্দারা অবশ্য রাস্তা কেটে দেওয়া নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তাঁদের কথায়, রাতের অন্ধকারে কে রাস্তা কেটেছে সে কথা তাঁরা জানেন না।
এই এলাকায় রাস্তার সমস্যা নতুন নয়। গঙ্গাসাগর থেকে চককাশি যাওয়ার এই রাস্তাটির মাঝের প্রায় এক কিলোমিটার অংশ দীর্ঘদিন ধরে ভাঙাচোরা অবস্থায় রয়েছে। অন্তত চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে এই রাস্তাটি মেরামত করা হয়নি। জোড়াতালি দিয়ে চলছে বলে অভিযোগ গ্রামের বাসিন্দাদের। সেই কারণে কিছু দিন আগে চাঁদা তুলে গ্রামের লোকজন বিকল্প একটি রাস্তা তৈরি করেন। তাতে যাতায়াতের পথ তিন কিলোমিটার মতো কমে যায়। বার বার দুটি পঞ্চায়েত এলাকায় আবেদন করার পরে কোনও পঞ্চায়েতের থেকে আশ্বাস না পেয়ে তাঁরা নিজেরা রাস্তা বানান। জলঘর গ্রাম পঞ্চায়েতের গঙ্গাসাগর, চককাশি, রাধানগর, গুপীনগর প্রভৃতি এলাকার বাসিন্দাদের যাতায়াতের সমস্যা দূর করতে এগিয়ে আসেন কনক মণ্ডল নামে এক সমাজসেবী। কোয়ারন এলাকার একটি ডোবায় পাইপ বসিয়ে ট্র্যাক্টরের সাহায্যে মাটি ফেলে তাঁরা রাস্তা তৈরি করেন। ফলে জলঘর ও চকভৃগু গ্রাম পঞ্চায়েত জুড়ে যায়। এবার অবশ্য বিক্ষোভের পথে হাঁটলেন গ্রামবাসীরা।