দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগরে এক চিকিৎসকের বাড়ির রাস্তা বন্ধ করে দিলেন এলাকার লোকজন। তাঁরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তিরিশ বছর ধরে চিকিৎসা করলেও বাড়িতে কোনও দিন রোগী দেখেননি ওই চিকিৎসক। এখন করোনার সময়েও এলাকায় কোনও সন্দেহজনক ব্যক্তিকে ঢুকতে দিতে রাজি নন তাঁর পাড়ার লোকজন। এলাকায় ‘সন্দেহজনক’ রোগীর যাতায়াত বন্ধ করতে চিকিৎসকের বাড়ির রাস্তা পাড়ার সকলে মিলে বন্ধ করে দিয়েছেন। যদিও খবর পেয়ে পুলিশ এসে সেই ব্যারিকেড ভেঙে দিয়েছে।
ডাক্তারের কাছে রোগীদের অনেকের মধ্যেই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ রয়েছে। এই সন্দেহ এবং তা থেকে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাতেই উত্তর ২৪ পরগনা জেলার অশোকনগর-কল্যাণগড় পুরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের প্রফুল্লনগর এলাকায় সুব্রত শীল নামে ওই চিকিৎসকের বাড়ির রাস্তা বন্ধ করে দেন এলাকার লোকজন। তাঁর বাড়ির গলির মুখে বাঁশ দিয়ে আটকে দেওয়া হয়। স্থানীয় সাধন সরকার নামে এক যুবক রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার ব্যাপারে নেতৃত্ব দিয়েছেন বলে অভিযোগ।
চিকিৎসক সুব্রত শীল বর্তমানে নদিয়া জেলার শান্তিপুর হাসপাতালে কর্মরত। তাঁর ছেলে দেবোপম শীল ডাক্তারির প্রথম বর্ষের ছাত্র। গত মঙ্গলবার থেকে পাড়ার কয়েক জন যুবক হঠাৎ গলির মুখ বাঁশ দিয়ে আটকে দেন। করোনা রোগী যাতে না আসতে পারে সেজন্যই এই উদ্যোগ। এব্যাপারে পাড়ার ওই যুবকরা চিকিৎসকের সঙ্গে কোনও আলোচনাই করেননি বলেও অভিযোগ।
অভিযুক্ত সাধন সরকার বলেন, “উনি চিকিৎসক। বিভিন্ন জায়গায় চেম্বার থাকলেও এলাকার কোনও রোগী দেখেন না, বলে দেন চেম্বারে আসতে। এখন উনি কেন এখানে চেম্বার করছেন যখন সরকার এত কড়াকড়ি করছে। উনি চিকিৎসক হিসাবে রোগীকে না করতে পারেন না ঠিকই কিন্তু আমরাও তো আমাদের নিরাপত্তার দিকটি বিবেচনা করব!” পাড়ার লোকজন তাঁকে সমর্থন করছেন। এব্যাপারে এলাকার কাউন্সিলর থেকে পুলিশ, কেউ কোনও মন্তব্য করেননি।
পাড়ার লোকজনের এই আচরণে ওই চিকিৎসক এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা শঙ্কিত। তাঁদের কটূক্তি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ। পরে ঘটনাস্থলে অশোকনগর থানার পুলিশ এসে বাঁশের ব্যারিকেড খুলে দেয়। দেবোপম জানান যে এমন ঘটনা দেখে তাঁর তো চিকিৎসক হতেই ভয় করছে!
নিজেদের প্রতিবেশীদের নামে লিখিত অভিযোগ জানাতে রাজি নন চিকিৎসক। তবে পুলিস স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে।