হিঙ্গলগঞ্জের বিধবাগ্রামের জন্য আলাদা হেঁসেল, খরচ জোগাচ্ছেন স্বচ্ছল ব্যক্তিরা
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাইরের লোকের কাছে বসিরহাট মহকুমার হিঙ্গলগঞ্জ ব্লকের কালীতলা গ্রাম পঞ্চায়েতের পারঘুমটি পরিচিত ‘বিধবাগ্রাম’ নামে। তার কারণ এই গ্রামের শতাধিক বাসিন্দা বিধবা। ভিক্ষাবৃত্তি ছাড়া তাঁদের রোজগারের অন্য উপায় নেই। লকডাউনের ফলে তাঁর
শেষ আপডেট: 12 May 2020 06:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাইরের লোকের কাছে বসিরহাট মহকুমার হিঙ্গলগঞ্জ ব্লকের কালীতলা গ্রাম পঞ্চায়েতের পারঘুমটি পরিচিত ‘বিধবাগ্রাম’ নামে। তার কারণ এই গ্রামের শতাধিক বাসিন্দা বিধবা। ভিক্ষাবৃত্তি ছাড়া তাঁদের রোজগারের অন্য উপায় নেই। লকডাউনের ফলে তাঁরা এখন চরম সঙ্কটে দিন কাটাচ্ছেন। ভিক্ষা না জোটায় দেখা দিয়েছে খাবারের সমস্যা। এই অবস্থায় তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছেন কয়েক জন সহৃদয় মানুষ। তাঁরাই ওঁদের জন্য তৈরি করেছেন হেঁশেল। পারঘুমটি গ্রামের একটি স্কুলে প্রতিদিন দু'বেলা নিয়ম করে টেবিল-চেয়ারে ডাল ভাত ডিম মাংস খাওয়ানোর ব্যবস্থা তাঁরা করেছেন গ্রামের শ'দেড়েক বিধবার জন্য।
স্কুলের শিক্ষক তুষার মণ্ডল বলেন, “এই অসহায় বিধবাদের কথা কেউ ভাবছেন না। আমার মনে হয়েছে এই সংকটের সময়ে তাঁদের পেট ভরে খাওয়ালে মনে তৃপ্তি পাওয়া যাবে। তাই এই উদ্যোগ।” ভিক্ষা করা এখন মুশকিল হয়ে পড়েছে অনেকের কাছে। কেউ ঠিক মতো চলতে পারেন না। কেউ আবার চোখে প্রায় দেখেন না। বলিরেখায় ভরে গেছে মুখ। চামড়া ঝুলে পড়েছে। তাছাড়া লকডাউনের সময় যখন স্টেশন-বাস স্ট্যান্ড সব ফাঁকা, ধর্মস্থানে লোক নেই তখন ভিক্ষা দেবেই বা কে? তুষার মণ্ডল বলেন, “এই অসহায় মানুষজনের পাশে দাঁড়াতে পেরে আমরা খুশি। যত দিন লকডাউন চলবে তত দিন আমরা তাঁদের খাওয়ার ব্যবস্থা করেছি। যাঁরা সমাজে ধনী পরিবার বলে পরিচিত তাঁরা স্বেচ্ছায় এঁদের খাবারের জন্য সব রকম ব্যবস্থা করছেন। আমরা তাঁদের কাছে কৃতজ্ঞ।”
[caption id="attachment_219998" align="aligncenter" width="698"]

হিঙ্গলগঞ্জের বিধবাগ্রাম[/caption]
পারঘুমটি গ্রামের বেশিরভাগ মহিলার জীবনই খুব ট্র্যাজিক। এঁদের সকলের স্বামীর মৃত্যু হয়েছে বাঘের হানায়। কেউ বাঘের কবলে পড়েছেন নদীতে মাছ বা কাঁকড়া ধরতে গিয়ে আবার কেউ বাঘের থাবায় পড়েছেন সুন্দরবনের জঙ্গলে মধু সংগ্রহ করতে গিয়ে। স্বামীহারা এই সব মহিলারা এখন চরম দারিদ্র্যের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। এঁদের মধ্যে কেউ কেউ বিধবাভাতা পান ঠিকই তবে সেই টাকায় তো আর সংসার চলে না! বাধ্য হয়েই অনেকে গ্রামে ভিক্ষাবৃত্তি করেন কিন্তু বয়সের ভারে অনেকে সেটুকুও করতে পারেন না।
অনেকে বিধবাভাতা পেলেও সকলে তা যে পাবেন না সেটাই স্বাভাবিক। বনে যাওয়ার ক্ষেত্রে সরকারি বিধিনিষেধ রয়েছে। চাইলেই যেকোনও জায়গায় যাওয়া চলে না। তাও অনেকে ঢুকে পড়েন নিষিদ্ধ এলাকায়। তখন প্রাণ গেলে সরকারি সাহায্য পাওয়া মুশকিল হয়ে পড়ে পরিবারের পক্ষে। নিষিদ্ধ এলাকায় গেলে বাঘের পেটে যাওয়ার সমূহ আশঙ্কা রয়েছে এবং সেক্ষেত্রে পরিবারের লোক সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাবেন না – যাঁরা নিয়ম ভাঙেন তাঁরা একথা জেনেই নিয়ম ভাঙেন। তাঁরা নিয়ম ভাঙেন পেটের তাগিদেই।
এই গ্রামের বিধবারা স্বামী হারানোর পরে নিজেরা রোজগার করতে শুরু করেছিলেন এক সময়। কখনও কাঁকড়া ধরে আবার কখনও গভীর জঙ্গলে ঢুকে মৌচাক ভেঙে তাঁরা অন্নের সংস্থান করেছেন। বয়সের ভারে সেসব যখন করতে পারেন না তখন সম্বল হয় ভিক্ষা করা। এখন অনেকের পক্ষে সেটুকুও করা সম্ভব হচ্ছে না। স্বামী বলতে এখন তাঁদের কাছে স্মৃতি ছাড়া আর কিছু নয়।