দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনাভাইরাস রুখতে সারা দেশে চলছে লকডাউন। এই অবস্থায় পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দকুমারে আটকে পড়েছিলেন মুর্শিদাবাদের বেশ কয়েকজন। কয়েক দিন আয় না হওয়ায় তাঁদের খাবার পর্যন্ত জুটছিল না। জনা চল্লিশ শ্রমিক ও ফেরিওয়ালা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করে এক জায়গায় জড়ো হন। পরে প্রশাসনের সহায়তায় তাঁদের বাড়ি ফেরা নিশ্চিত হয়।
আটকে পড়া লোকদের বেশিরভাগই পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে জিনিস ফেরি করতেন। এখন সেই কাজ পুরোপুরি বন্ধ। যাঁরা রাজমিস্ত্রি এখন তাঁরাও কাজ পাচ্ছেন না। এই অবস্থায় বেশ কয়েকজন সহৃদয় ব্যক্তি তাঁদের সাধ্য মতো কিছু সাহায্য করেছেন। তাঁদের বাড়ির লোকজনও খুবই উদ্বেগের মধ্যে ছিলেন।
এই অবস্থায় তাঁরা দ্বারস্থ হন স্থানীয় পঞ্চায়েতের। তাঁদের সহায়তা করতে এগিয়ে আসেন কুমোরআড়া গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ। শনিবার ওই চল্লিশ জনকে গ্রামে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। বাড়ি ফেরার ব্যাপারে তাঁরা নিশ্চিত হওয়ার পরে ফোনে সেই খবর দিয়ে দেন পরিবারের লোকজনকে।
একটি গাড়ি ভাড়া করে তাঁদের বাড়ি ফেরার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বাড়ি ফিরতে পেরে স্বস্তির নিঃশাস ফেলেছেন নূর ইসলাম। বেশ কয়েকদিন ফেরি করা বন্ধ থাকায় তিনি সমস্যায় পড়েছিলেন। পেশার রাজমিস্ত্রী আজাদ শেখ অবশ্য বিরক্ত। এই ক’দিন তাঁরা কোথাও কাজ পাচ্ছিলেন না তার উপরে থাকা-খাওয়ারও সমস্যা হচ্ছিল। দেশজুড়ে লকডাউন ঘোষণা হয়ে যাওয়ায় এখন তাঁরা বাড়িও ফিরতে পারছিলেন না। এখন একটা গাড়ির ব্যবস্থা হচ্ছে প্রশাসনের উদ্যোগে। তবে হাতে টাকাপয়সা না থাকায় সমস্যায় পড়েছেন। মহম্মদ ফিরোজ শেখ পেশায় ফেরিওয়ালা। বেশ কয়েকদিন পরে এখন চিন্তামুক্ত হয়েছেন। বাড়ি ফেরার উপায় বের হওয়ায় তিনি দৃশ্যতই খুশি।
কুমোরআড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান গৌরীরানি দাস পাল জানান যে স্থানীয় ব্লক মেডিক্যাল আধিকারিকের সহায়তায় আটকেপড়া ফেরিওয়ালাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে। পঞ্চায়েতের উদ্যোগে তাঁদের বাড়িতে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।