দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-- প্রায় সকলেই বলেছেন মাস্ক এবং স্যানিটাইজার এখন জীবনের অঙ্গ হয়ে উঠেছে। সেই মাস্ক এবং স্যানিটাইজার যাতে গরিব মানুষ কম পয়সায় পেতে পারে তার জন্য রেশনের মাধ্যমে তা বন্টন করার দাবি তুলল বামফ্রন্ট।
মঙ্গলবার বিধানসভার বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল রাজভবনে যায় স্মারকলিপি দিতে। বেরিয়ে এসে সংবাদমাধ্যমের সামনে এই দাবির কথা জানান সুজন।
একইসঙ্গে যাদবপুরের বিধায়ক বলেন, "আমরা দাবি করেছি আবাস যোজনায় যে বাড়ি তৈরি হবে, সেটা দিল্লির হোক বা বাংলার আবাস যোজনা হোক, ছাদ পাকা করতে হবে।" সুজনবাবুর কথায়, "উমফানের ধাক্কায় আবাস যোজনায় তৈরি সমস্ত বাড়ির ছাদ উড়ে গিয়েছে। প্রতিবছর ঝড় হবে, তাতে অ্যাজভেস্টার উড়বে, আবার সেটা লাগানো হবে-- এতে গ্রামেগঞ্জে লুঠের ব্যবস্থা পাকা হচ্ছে। তাই পাকা ছাদের ব্যবস্থা করতে হবে।"
সেইসঙ্গে বামেদের অভিযোগ, সুপার সাইক্লোন বিধ্বস্ত এলাকায় ত্রাণ ও পুনর্গঠনের কাজ যথাযথ ভাবে হচ্ছে না। এখনও বহু এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ ফেরানোর কাজ শুরুই হয়নি। রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়ের কাছে তা নিয়েও নালিশ জানিয়েছে বামেরা।
যাদবপুরের বিধায়ক আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী এসে এলাকা ঘুরে দেখে এক হাজার কোটি টাকা ঘোষণা করে সেই কবে দিল্লি চলে গিয়েছেন, কিন্তু এখনও কেন্দ্রীয় দল রাজ্যে এল না। তা নিয়ে সরকারেরও কোনও গা নেই বলে অভিযোগ করেন সুজন। তিনি এও বলেন, "আমরা রাজ্যপালের কাছে দাবি জানিয়েছি কেন্দ্রীয় দল এলে আমরা দেখা করতে চাই।"
উমফানকে জাতীয় বিপর্যয় ঘোষণা করার দাবি জানিয়েছে বামেরা। রাজ্য বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান তথা প্রবীণ সিপিএম নেতা বিমান বসু বলেন, "আয়লার সময়ে উনি যখন বিরোধী নেত্রী ছিলেন তখন আদাজল খেয়ে নেমেছিলেন রাজ্য সরকার যেন টাকা না পায়। আমরা দাবি জানাচ্ছি, জাতীয় বিপর্যয় ঘোষণা করে রাজ্যকে বেশি টাকা দিক কেন্দ্র। এটাই তৃণমূলের সঙ্গে আমাদের ফারাক।"
এদিন ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সিপিএমের পলিটব্যুরোর বৈঠক হয়। সেখানেও দলের কেন্দ্রীয় কমিটির তরফে রাজ্য ইউনিটকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ত্রাণকার্যে যাতে ছাত্র-যুব সংগঠনের কর্মীরা গায়ে-গতরে নামে।