দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিন দশ পনের ধরে মেঘ-রৌদ্রের খেলা চলার পর, অবশেষে বাংলায় বাম-কংগ্রেস আসন সমঝোতায় জলই পড়ে গিয়েছে। সমঝোতা ভেস্তে যাওয়ায় এ বার কংগ্রেসের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু। বর্ষীয়ান এই বাম নেতা শনিবার বলেন, “আমরা চেয়েছিলাম বিজেপি ও তৃণমূল বিরোধী ভোটের সমাহার ঘটাতে। কিন্তু কংগ্রেস আলোচনা এগিয়েও তা চূড়ান্ত করেনি। এখন তো শুনছি মানি ব্যাগ ঘোরাফেরা করেছে।”
ঠারেঠোরে সিপিএমের এই পলিটব্যুরোর সদস্য বোঝাতে চেয়েছেন, কংগ্রেস নেতারা টাকা পয়সা নিয়ে এই কাজ করেছেন। বিমান বসু স্বভাবসিদ্ধ ঢঙেই এ দিন বলেন, “মানি-মানি-মানি। মানি ইজ হানি।” কিন্তু কে টাকা দিয়েছে? এই প্রশ্নের উত্তরে বিমানবাবু অবশ্য মুখে বলেছেন, “ক্রোনি ক্যাপিটালিস্টরা।” কিন্তু সিপিএমের অনেক নেতাই সন্দেহ প্রকাশ করছেন, এমনিতেই প্রদেশ কংগ্রেসের এখন অর্থনৈতিক অনটন। হয়তো বিজেপি-র সঙ্গে বোঝাপড়া করেই এই কাজ করেছে কংগ্রেস। কেউ কেউ আবার মনে করেন তৃণমূলের সঙ্গেই তলে তলে আঁতাত করে নিয়েছে কংগ্রেস। নিজেদের আসন গুলি টিকিয়ে রেখে বাকিগুলি দিদির হাতে তুলে দেওয়ার চাল।
বিমান বসুর পাল্টা দিতে ছাড়েননি প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র। স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “সমঝোতা ভেস্তে যাওয়ার জন্য দায়ী বামেরাই।” সেই সঙ্গে চ্যালেঞ্জের সুরে ‘ছোড়দা’ বলেন, “বিমান বসু, সূর্যকান্ত মিশ্রকে বলুন না আমার সঙ্গে বসে এ সব বলতে।”
বাম-কংগ্রেস আসন সমঝোতা নিয়ে শুরুর দিকে জট পাকে রায়গঞ্জ আর মুর্শিদাবাদ আসন নিয়ে। বামেরা এই দুটি আসন চোদ্দর ভোটে জিতেছিল। কংগ্রেস এ বার ওই দুটি আসনে লড়তে চেয়েছিল। এরপর দিল্লিতে রাহুল গান্ধী এবং সীতারাম ইয়েচুরি বসে সেই জট কাটিয়ে দেন। ঠিক হয়, গত ভোটে যে আসন যার জেতা, সেই আসনে সেই দলই লড়বে। কিন্তু তারপর আলোচনার মাঝেই দুম করে গত ১৫ মার্চ ২৫ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে দেয় আলিমুদ্দিন। আর এতেই ক্ষেপে যায় কংগ্রেস। দীপা দাসমুন্সি, শঙ্কর মালাকার, শুভঙ্কর সরকাররা সওয়াল করেন একা লড়ার পক্ষে। দিল্লি গিয়ে হাইকম্যান্ডকে রাজিও করিয়ে নেন সোমেন মিত্র।
পর্যবেক্ষকদের মতে, আসন সমঝোতা ভেস্তে যাওয়ায় বিমানবাবুরা যে খুব কষ্ট পেয়েছেন তেমন নয়। শুধু রায়গঞ্জ আর মুর্শিদাবাদ আসন ধরে রাখতে চায় বামেরা। সেখানে চতুর্মুখী লড়াই হলে সমীকরণ এ দিক ও দিক হয়ে যেতে পারে। তাঁদের মতে, লড়াই চতুর্মুখী হোক আর পঞ্চমুখী হোক, তাতে বামেদের খুব একটা ফায়দা তোলার জায়গা নেই। কংগ্রেসের কিছু পকেট আর বামেদের অনিশ্চয়তার দুটি আসন বাদ দিয়ে সারা রাজ্যেই এ বার লড়াইটা তৃণমূল বনাম বিজেপি-রই।