দ্য ওয়াল ব্যুরো, কার্শিয়াং ও জলপাইগুড়ি: টানা বর্ষণের ফলে ধস নেমেছে কার্শিয়াংয়ের রোহিণী রোডে। রাতভর বৃষ্টির ফলে বুধবার সকাল থেকেই দেখা যায় কার্শিয়াং থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে কার্গিল দারা এলাকার রাস্তায় ধস নেমেছে। এর ফলে রাত থেকেই রাস্তা আটকে যায়। প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে রাত এগারোটা থেকে বারোটার মধ্যে এই এলাকায় ধস নামে।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে বুধবার সকাল থেকেই রাস্তা সাফাই করতে একযোগে কাজ শুরু করে কার্শিয়াং ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্ট এবং কার্শিয়াং ট্রাফিক পুলিশ। সকাল সাড়ে নটার পরে এই রাস্তায় ছোট গাড়ি চলাচল করার অনুমতি দেওয়া হয়। এখনও পর্যন্ত বড় গাড়ি চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়নি। জানা গেছে, শিলিগুড়ি থেকে একটি এক্সক্যাভেটর আনা হয়েছে রোহিণী রোডে। আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সব ধরনের গাড়ি চলাচল করতে পারবে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।
প্রবল বর্ষণে বানারহাটের হাতিনালার জলও উপচে পড়েছে। তবে এখন পরিস্থিতির আংশিক উন্নতি হয়েছে বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে। বানারহাটের বিভিন্ন বাড়িতে জল ঢুকে যাওয়ায় আসবাবপত্র সহ বিভিন্ন জিনিসের ক্ষতি হয়েছে। এলাকার বাসিন্দারা নিজেরাই বাড়ির ভিতর থেকে পলি সরানোর কাজ শুরু করছেন।
হাতি নালার অতিরিক্ত জল এখন আংরাভাসা নদী দিয়ে বের হচ্ছে। এই কারণে নদীতে ভাঙন এখনও চলছে একই ভাবে।
সোমবার হাতিনালার জলে আংরাভাসা নদীর পাড়ে গয়েরকাটা চা বাগানের বিঘা লাইনের তিনটি বাড়ি নদীর গর্ভে চলে যায়। মঙ্গলবার রাতে আবার প্রবল বৃষ্টি হওয়ায় নতুন করে আরও দুটি বাড়ি জলের স্রোতে ভেসে গেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। আরও একটি বাড়ির অবস্থা খুব খারাপ। যে কোনও সময় সেটি নদীর গর্ভে তলিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এলাকা থেকে মানুষজন তাঁদের বাড়ির আসবাবপত্র তো বটেই, ঘর ভেঙে টিনের ছাদ, কাঠ প্রভৃতি নিয়ে নিরাপদ স্থানে যেতে শুরু করেছেন।
প্রবল বৃষ্টি মাথায় করে রাতে বানভাসি মানুষের পাশে দাঁড়ান ধূপগুড়ি পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য সীমা চৌধুরী। কয়েকদিন ধরে চলা বন্যা পরিস্থিতির পরে এলাকার মানুষ তেমন ভাবে সাহায্য পাননি বলে তিনি নিজেই জানিয়েছেন। তবে জলপাইগুড়ির জেলাশাসক অভিষেক কুমার তিওয়ারি টেলিফোনে জানান, “রাতেই জল নেমেছে। আমরা ৫০টির বেশি পরিবারকে রাতেই সরিয়েছি। আজ পরিস্থিতি ও ক্ষয়ক্ষতি ক্ষতিয়ে দেখছে ব্লক প্রশাসন।”