দ্য ওয়াল ব্যুরো, মালদহ: এ বার ভিনরাজ্য থেকে ফেরার পথে ট্রেনে মৃত্যু হল রতুয়ার বাসিন্দা এক শ্রমিকের। কেরালা থেকে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। মৃত শ্রমিকের নাম শেখ খাতিপ (২৭)৷ মঙ্গলবার ভোরে তাঁর দেহ মালদহ টাউন স্টেশনে নামানো হয়। সেখান থেকে ময়নাতদন্তের জন্য দেহ পাঠানো হয় মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। ওই শ্রমিকের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা এলাকায়৷
শেখ খাতিপের বাড়ি রতুয়া-২ ব্লকের চাঁদপুর গ্রামে৷ তিনি কেরলে নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করতেন৷ প্রায় ছয় মাস আগে কেরলে যান৷ কিন্তু লকডাউন শুরু হওয়ায় কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর সেখানেই আটকে পড়েন তিনি৷ অনেক চেষ্টা করেও বাড়ি ফিরতে পারছিলেন না৷ একই সমস্যা দেখা দিয়েছিল এই গ্রাম থেকে কেরলে কাজের জন্য যাওয়া প্রায় ২০০ শ্রমিকের৷ শ্রমিক স্পেশ্যাল ট্রেন চালু হওয়ার পর শেষ পর্যন্ত গত ৬ জুন এলাকার প্রায় ৫০ জনের সঙ্গে বাড়ির দিকে রওনা দেন খাতিপ৷ সোমবার ভোরে ট্রেনের মধ্যেই তাঁর মৃত্যু হয়৷ মঙ্গলবার ভোরে তাঁর মৃতদেহ নিয়ে ওই ট্রেনটি মালদা টাউন স্টেশনে পৌঁছোয়৷
সাতিপের বাবা শেখ সালেক বলেন,"ছ'মাস আগে আমার ছেলে কেরালায় শ্রমিকের কাজ করতে গিয়েছিল৷ লকডাউনে ওর কাজ বন্ধ হয়ে গেলেও ট্রেন না পাওয়ায় বাড়ি ফিরতে পারেনি৷ শেষপর্যন্ত গত ৬ তারিখ সে ট্রেনে চেপে বসে৷ গতকাল আমরা খবর পাই, মাঝরাস্তায় ট্রেনেই তার মৃত্যু হয়েছে৷ সে অসুস্থ ছিল বলে আমরা জানতাম না৷"
সাতিপের স্ত্রী লাকি বিবি বলেন,"আমার ছোট দু'টি ছেলে৷ বড় ছেলের বয়স পাঁচ, ছোটটির তিন৷ এই রাজ্যে কাজ না থাকায় আমাদের মুখ চেয়েই ও কেরলে কাজ করত। গতকাল খবর পাই, ট্রেনে চিকিৎসা না পেয়ে ও মারা গিয়েছে৷"
স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য মাজলুম শেখ জানান, তাঁদের গ্রাম থেকে প্রায় ২০০ জন কেরালায় কাজ করতে গিয়েছিলেন। লকডাউনে তাঁদের সবাই বাড়ি ফিরে আসতে চাইছিলেন। কিন্তু কোনও ট্রেন পাচ্ছিলেন না৷ তিনি বলেন,"আমরা সে কথা গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান সহ পুলিশকেও জানাই৷ শেষ পর্যন্ত এই ট্রেনে গত ৬ তারিখ কয়েকজন চেপে বসেন৷ আমরা খবর পাই, ট্রেনে ওঠার পর খাতিপের বমি শুরু হয়৷ ট্রেনে কোনও চিকিৎসা হয়নি৷ শেষ পর্যন্ত ট্রেনেই তাঁর মৃত্যু হয়৷ খাতিপের পরিবারের জন্য আমরা সরকারি সাহায্যের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছি৷"
এদিকে মালদা টাউন জিআরপি থানার তরফে জানানো হয়েছে, এদিন ভোরে ওই শ্রমিকের মৃতদেহ ট্রেন থেকে নামিয়ে ময়নাতদন্তের জন্য মালদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে৷ ময়নাতদন্তের পর আইন মেনে মৃতদেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে৷ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত শ্রমিকের দেহ থেকে লালারস সংগ্রহ করা হয়েছে৷ ওই শ্রমিক করোনায় আক্রান্ত ছিলেন কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে৷
গত দোসরা জুন মুম্বই থেকে বাড়ি ফেরার পথে ট্রেনের মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়ে হরিশ্চন্দ্রপুরের বাসিন্দা এক কিশোর পরিযায়ী শ্রমিক। অনাহারে অর্ধাহারে অসুস্থ হয়ে পড়েছিল পনেরো বছরের কিশোর পীযূষ দাস। ট্রেন যাত্রার ধকল সহ্য করতে পারেনি সে। মালদহ মেডিক্যাল কলেজে তার মৃত্যু হয়।