দ্য ওয়াল ব্যুরো: সারদা কাণ্ডের তদন্তে এ বার মালদহের পুলিশ সুপার তথা বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের প্রাক্তন গোয়েন্দা প্রধান অর্ণব ঘোষের ডাক পড়েছে সিবিআই দফতরে। এ ব্যাপারে তাঁকে সম্প্রতি চিঠি ধরিয়ে কেন্দ্রীয় এই তদন্ত এজেন্সি জানিয়েছে সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য যেন তিনি হাজির হন। সূত্রের খবর, সিবিআই এই পদক্ষেপ করার আগেই রাজ্যসভায় তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদ তথা সারদা কাণ্ডে অন্যতম অভিযুক্ত কুণাল ঘোষ তদন্ত এজেন্সিকে আর্জি জানিয়ে রেখেছেন, তাঁকে যেন অর্ণব ঘোষের মুখোমুখি বসানো হয়।
কেন? সিবিআইয়ের কাছে কুণালের বক্তব্য, তিনি ৯১ পৃষ্ঠার চিঠিতে অর্ণব ঘোষের ভূমিকা সম্পর্কে সবিস্তারে অভিযোগ জানিয়েছেন। অর্ণববাবু যদি সে কথা মানতে না চান, বা অন্য যুক্তি দেন, তা হলে সেটা তাঁরও শোনা উচিত। মুখোমুখি বসালে প্রকৃত সত্যটা খুঁজে বের করতে তদন্তকারী অফিসারদের সুবিধা হবে।
এ ব্যাপারে জানতে চেয়ে কুণাল ঘোষকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, “সিবিআইয়ের কাছে অনেক আর্জিই জানিয়ে রেখেছি। কবে কখন কী বলেছি, সব মনে নেই। তবে সিবিআই তদন্তে সব রকম সহযোগিতা করতে আমি প্রস্তুত।”
অর্ণববাবুকে সিবিআই তলব করার খবর সোমবারই চাউর হয়। তার পর প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে কুণাল দ্য ওয়াল-কে বলেছিলেন, “সিবিআই যখন ডেকেছে তখন অর্ণবের উচিত ঘড়ি মিলিয়ে, নির্দিষ্ট দিনে হাজিরা দিতে যাওয়া। এখন থেকে অ্যালার্ম দিয়ে রাখা।” সেইসঙ্গে কুণালের পরামর্শ ছিল, “অর্ণব যখন যাবেন, যেন ভাল করে টিফিন করে যান। তাঁর যদি পুরনো কথা মনে করতে অসুবিধে হয় তাহলে আমি ওই দিন যেতে পারি।”
প্রসঙ্গত, সারদা কাণ্ড নিয়ে হইচই শুরু হওয়ার সময় থেকেই বিরোধী রাজনীতিকদের একাংশের অভিযোগ, সিবিআই তদন্তভার হাতে নেওয়ার আগেই অনেক নথি ভ্যানিশ হয়ে গেছে। যার মধ্যে বারবার উঠে আসে সুদীপ্ত সেনের লাল ডায়েরির কথা। অনেকে বলেন, ওই লাল ডায়েরিটা হাতে পেলেই নাকি সব পরিষ্কার হয়ে যাবে। তাতেই নাকি লেখা ছিল কোটি কোটি টাকা লেনদেনের কাঁচা হিসেব।
কুণাল ঘনিষ্ঠরা বলেন, তাঁকে বেআইনি ভাবে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তাঁদের কথায়, ২০১৩ সালের ২৩ নভেম্বর বিধাননগর দক্ষিণ থানার পুলিশ গ্রেফতার করেছিল কুণালকে। কিন্তু ওই থানায় কুণালের নামে নাকি কোনও এফআইআর ছিল না। বরং কুণালের দাবি, সেদিন তিনি বিধাননগর থানায় গিয়েছিলেন অর্ণব ঘোষের নামে এফআইআর করতে। তখনই তাঁকে গ্রেফতার করা হয় বলে অভিযোগ।
কিন্তু কুণাল কী অভিযোগ করতে গেছিলেন অর্ণব ঘোষের বিরুদ্ধে? সিবিআই-এর একটি সূত্রের মতে, বিধাননগর দক্ষিণ থানায় কুণালের দায়ের করা ওই এফআইআর-এর প্রসঙ্গেই মুখোমুখি বসানো হতে পারে মালদহের পুলিশ সুপার এবং প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদকে।
বস্তুত, মালদহের পুলিশ সুপারের বিরুদ্ধে কুণালের ক্ষোভ সম্প্রতি বারবার প্রকাশ পেয়েছে। পঞ্চায়েতের বোর্ড গঠনে মালদা জেলায় রাজনৈতিক হিংসা নিয়ে অর্ণবের বিরুদ্ধে ফোঁস করেছিলেন কুণাল। বলেছিলেন, “এত অস্ত্র মালদা জেলায় এল কোথা থেকে? পুলিশ কী করছিল? কেন পুলিশ সুপার অর্ণব ঘোষকে গাছে বেঁধে রাখা হবে না?”
শুধু পুলিশ কর্তা অর্ণব ঘোষ বা পল্লবকান্তি ঘোষ নয়। সিবিআই নাকি নোটিস পাঠিয়েছে তৃণমূলের এক প্রাক্তন রাজ্যসভার সাংসদকে। তাঁর থেকে চাওয়া হয়েছে বেশ কিছু নথি। ২০১১ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত তিনি কোন ব্যবসায় কত টাকা ঢেলেছেন তার দস্তাবেজ চেয়ে পাঠিয়েছেন গোয়েন্দারা। সব দেখে অনেকেই বলছেন, আশ্বিনের শারদপ্রাতে সারদা নিয়ে সিবিআই যেভাবে এগোচ্ছে তাতে অনেকেরই রাতের ঘুম ছোটার জোগাড়!