দ্য ওয়াল ব্যুরো: জুনিয়র ডাক্তারদের কর্মবিরতির মাঝেই কামারহাটির সাগর দত্ত মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে শিশু মৃত্যু নিয়ে যখন তোলপাড় শুরু হয়েছে, তখন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধেই বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন তৃণমূলের প্রাক্তন রাজ্যসভার সাংসদ কুণাল ঘোষ। শুধু অভিযোগ তোলাই নয়, শনিবার নিজে পৌঁছেও গেলেন হাসপাতালে।
কুণাল বলেন, “সাগর দত্ত মেডিক্যাল কলেজের পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য আমি সাংসদ থাকার সময়ে ৫০ লক্ষ টাকা দিয়েছিলাম। ২০১৩ সালে সেই টাকা পায় হাসপাতাল। কিন্তু আমি জানতে পেরেছি ওই টাকা ২০১৮ সালে ফেরত দিয়ে দেওয়া হয়।” তাঁর কথায়, “এখানে যে শিশুমৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে, তা পরিকাঠামোর অভাবে। পেডিয়াট্রিক ভেন্টিলেটর ছিল না বলেই মৃত্যু হয়েছে ওই শিশুর।”
কুণাল এ দিন গিয়ে সাগর দত্ত মেডিক্যাল কলেজের প্রিন্সিপ্যাল ডাক্তার হাসি দাশগুপ্ত ও অন্যান্য সিনিয়র চিকিৎসকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। কুণালের দাবি, চিকিৎসকরা জানিয়েছেন এ নিয়ে রোগী কল্যাণ সমিতিতেও আলোচনা হয়েছে।
২০১৩ সালে সারদা মামলায় গ্রেফতার করা হয় কুণালকে। তারপর থেকেই তৃণমূলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক তলানিতে গিয়ে ঠেকে। কুণালবাবুর প্রশ্ন, রাজনীতি করার জন্যই কি ওই টাকা ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল? যদিও বর্তমান প্রিন্সিপ্যাল কুণালকে জানিয়েছেন, তিনি যতদিন দায়িত্বে আছেন, ততদিন এই ঘটনা ঘটেনি। তার আগে এটা হয়েছে। তিনিও শুধু শুনেছেন মাত্র। কুণাল এ নিয়ে হাইকোর্টে মামলাও করেছেন।
রোগী কল্যাণ সমিতির আগে চেয়ারম্যান ছিলেন মদন মিত্র। পরে চেয়ারম্যান হন, বরানগরের বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী তাপস রায়। তাপসবাবুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি যতদিন চেয়ারম্যান হয়েছি, ততদিন এই ঘটনা আমি শুনিনি। কুণাল টাকা দিয়েছিল কী দেয়নি, তা আমার জানা নেই। রোগী কল্যাণ সমিতির কোনও বৈঠকেও তা আলোচনা হয়নি।”
সাগর দত্তে তিন দিনের শিশুর মৃত্যুর পর অনেকেই জুনিয়র ডাক্তারদের কর্মবিরতির দিকে আঙুল তুলেছিলেন। কিন্তু কুণালের যে দাবি, ন্যূনতম পরিকাঠামো নেই। এবং রাজনীতি করতে গিয়ে পরিকাঠামো বাড়ানোও হয়নি। ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছে টাকা।