দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেশপুরের আনন্দপুরের উপর ঘুচিশোলে মহিলাকে পিটিয়ে খুনের ঘটনায় গ্রেফতার করা হল তিন অভিযুক্তকে। ধৃত বচন মুর্মু, সুকুমার মুর্মু ও আলোক মুর্মুকে শনিবার তোলা হয় মেদিনীপুর জেলা আদালতে।
ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনায় জড়িত বাকিদের নাগাল পেতে চাইছে জেলা পুলিশ।
শুক্রবার সকাল দিনভর তল্লাশি চালিয়ে গ্রেফতার করা হয় তিন অভিযুক্তকে। মেদিনীপুর জেলা আদালতে শনিবার ধৃতদের হাজির করা হলে সাংবাদিকদের সামনে গোটা ঘটনায় স্বীকার করে নেন ধৃত আলোক মুর্মু। তিনি জানান, আগে বার কয়েক সালিশি সভা বসিয়ে সাবধান করা হয়েছিল মালতি মুর্মু ও সনাতন হাঁসদাকে। কথা না শোনায় সেদিন হাতেনাতে দুজনকে পেয়ে মারধর করে গ্রামের সাত জন যুবক।
কেশপুরের উপরঘুচিশোলে পরকীয়ার অভিযোগ তুলে গত ৫ মার্চ রাতে প্রৌঢ়াকে মালতি মুর্মুকে পিটিয়ে মারে সাত জন যুবক। সম্পর্কে কাকা সনাতন হাঁসদার সঙ্গে তাঁর পরকীয়া সম্পর্ক ছিল বলে অভিযোগ। ওই যুবকদের মারে আহত সনাতন হাঁসদাকে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
কেশপুরের জোড়াকেঁউদি গ্রাম পঞ্চায়েতের উপরঘুচিশোল গ্রামের বাসিন্দা মালতি মুর্মু ও সনাতন হাঁসদা। সম্পর্কে তাঁরা কাকা ও ভাইঝি হলেও বয়সের খুব একটা পার্থক্য নেই। মালতির চেয়ে বছর সাত-আটের বড় সনাতন। বছর দুয়েক আগে গ্রামে রটে যায় যে তাঁদের মধ্যে ‘সম্পর্ক’ রয়েছে। এরপরে গ্রামের কয়েক জন যুবক তাঁদের সতর্ক করে। মাস পাঁচেক আগে এনিয়ে একটি সালিসি সভাও বসে, তখন দু’জনকেই জরিমানা করা হয়। অভিযোগ, তার পরেও বন্ধ হয়নি তাঁদের মেলামেশা।
বৃহস্পতিবার রাতে দু’জনকে এক জায়গায় পেয়ে বেধড়ক মারধর করেন গ্রামের যুবকরা। প্রথমে তাঁরা চড়াও হন সনাতনের উপরে, পরে তাঁকে ছেড়ে দিয়ে পেটাতে শুরু করেন মালতিকে। তখন এলাকার কয়েকজন লোক এসে বাধা দিলে ওই যুবকরা তাঁদের সরিয়ে দেন। এই সুযোগে সনাতন পালিয়ে যান। যুবকরা ফের পেটাতে শুরু করেন মালতিকে।
শুক্রবার সকালে গ্রামে পৌঁছয় পুলিশ। আতঙ্কে পুরুষশূন্য হয়ে যায় গোটা গ্রাম। তল্লাশি করে শুক্রবারই অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে পুলিশ।