দ্য ওয়াল ব্যুরো: কসবায় ভ্যাকসিন কেলেঙ্কারি কাণ্ডে একের পর এক নতুন তথ্য উঠে আছে। তদন্ত যত এগোচ্ছে অবাক হচ্ছেন দুঁদে পুলিশ কর্তারা। জানা গেছে, নিজেকে আইএএস অফিসার বলে ভুয়ো পরিচয় তো দিয়েছিলই দেবাঞ্জন, কলকাতা পুরসভার ডেপুটি ম্যানেজার সেজে ভুয়ো টিকাকরণ শিবির শুরু করার অনুমতি আদায়ের চেষ্টাতেও ছিল। তদন্তকারীরা বলছেন, পুণের সেরাম ইনস্টিটিউটে মেল করার নাটক সাজায় দেবাঞ্জন দেব ও তার খাস সহযোগীরা। যাতে এটাই বিশ্বাস জন্মায় যে সেরাম ইনস্টিটিউট থেকেই কোভিশিল্ড ভ্যাকসিন কিনেছে দেবাঞ্জন।
লালবাজার সূত্রে খবর, পুরসভা ছাড়াও পূর্ত দফতর, রাজ্য নির্বাচন কমিশন ও তথ্য সংস্কৃতি দফতরের প্রচুর জাল স্ট্যাম্প উদ্ধার হয়েছে। দেবাঞ্জনের যে খাস তিন সহযোী ধরা পড়েছে তারা এইসব কাজেই প্রত্যক্ষভাবে জড়িত রয়েছে বলেই মনে করছে পুলিশ। ধৃতদের জেলা করে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, নাম ভাঙিয়ে বিভিন্ন সংস্থার থেকে টাকা আদায় করা, সই নকল করা, জাল স্ট্যাম্প জোগাড় করা ইত্যাদি যাবতীয় অপরাধমূলক কাজের সঙ্গে এই তিনজনই সরাসরি জড়িত।
আশ্চর্যের ব্যাপার হল দেবাঞ্জনের বন্ধু ও নিকটজনদের মধ্যে যাঁরা এই ভুয়ো টিকাকরণ শিবির থেকে ভ্যাকসিনের ডোজ নিয়েছেন তাঁরাও নাকি বলেছেন, দেবাঞ্জন কলকাতা পুরসভার ডেপুটি ম্যানেজার হিসেবেই নিজের পরিচয় দিয়েছিলেন। কেউ আবার জানতেন তিনি কলকাতা পুরসভার জয়েন্ট কমিশনার। এই ভুয়ো পরিচয়েই নিজের মেল আইডি খুলেছিল দেবাঞ্জন। তাঁর নামে আটটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের হদিশও মিলেছে।
ভ্যাকসিন কেলেঙ্কারির তদন্তে শুক্রবারই বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠন করেছে লালবাজার। কসবা কাণ্ডে ধৃত দেবাঞ্জন দেবের একের পর এক কেলেঙ্কারি সামনে আসছে। শহরের একাধিক থানায় ওই প্রতারকের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা দায়ের হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সমস্ত অভিযোগ একত্রে তদন্তের স্বার্থেই সিট গঠন করা হয়েছে। তদন্তকারী অফিসাররা বলছেন, আরও বড় ষড়যন্ত্রের ছক ছিল দেবাঞ্জন দেবের। ধরা না পড়লে সে এমন আরও ভুয়ো টিকাকরণ শিবিরের ছাড়পত্র জোগাড় করে ফেলত বলে মনে করা হচ্ছে। এদিকে রাজ্য তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি-ও ভ্যাকসিন কেলেঙ্কারি নিয়ে তদন্ত শুরু করতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে। ইতিমধ্যে রাজ্য পুলিশের এলাকাধীন সোনারপুর থানায় দেবাঞ্জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছে।