ঐশীকে বাংলার মুখ করতে বলছেন কানহাইয়া, আলিমুদ্দিন কী বলছে
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্রনেতা তথা সিপিআইয়ের জাতীয় পরিষদের সদস্য কানহাইয়া কুমার গতকাল কলকাতায় এসেছিলেন। সল্টলেকের একটি সভায় প্রাক্তন এই ছাত্রনেতা জেএনইউয়ের ছাত্র সংসদের সভানেত্রী ঐশী ঘোষকে বাংলার বাম আন্দো
শেষ আপডেট: 24 January 2020 14:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্রনেতা তথা সিপিআইয়ের জাতীয় পরিষদের সদস্য কানহাইয়া কুমার গতকাল কলকাতায় এসেছিলেন। সল্টলেকের একটি সভায় প্রাক্তন এই ছাত্রনেতা জেএনইউয়ের ছাত্র সংসদের সভানেত্রী ঐশী ঘোষকে বাংলার বাম আন্দোলনের সামনের সারিতে তুলে আনার পক্ষে সওয়াল করেছেন। তারপরই প্রশ্ন উঠেছে, ঐশীকে ছাত্র আন্দোলন থেকে কি গণআন্দোলনে তুলে আনবে সিপিএম?
এ ব্যাপারে কানহাইয়ার কথাকে কার্যত খোলামেলা সমর্থন করেছেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলী ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী। দলের পক্ষ থেকে ছাত্রফ্রন্টের দায়িত্বেও তিনি। সুজনবাবুও ছাত্র আন্দোলন থেকেই রাজনীতিতে এসেছেন। একদা তিনিও এসএফআইয়ের রাজ্য ও সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। যাদবপুরের বিধায়ক বলেন, “নতুন প্রজন্মের মধ্যে যে শক্তি আছে এটা চিরন্তন। সাম্প্রতিক ঘটনায় সেটা প্রমাণিতও হচ্ছে। নতুন প্রজন্মকে সামনে নিয়ে এসে ভরসা করতে পারাটাই তো আধুনিক চিন্তার অংশ।”
সিপিএমের ‘বৃদ্ধতন্ত্র’ নিয়ে দলের মধ্যেই কম আলোচনা হয় না। কিন্তু ইদানিং সিপিএম কিছুটা হলেও ‘পক্ককেশ না হলে নেতা হওয়া যায় না’ মানসিকতা থেকে বেরনোর চেষ্টা করছে। তিন বছর আগেই এরিয়া কমিটিগুলির সম্মেলনে গাইডলাইন পাঠিয়ে বলে দেওয়া হয়েছিল, একজন করে অনূর্ধ্ব ৩১-এর ছাত্র-যুবকে কমিটিতে ঠাঁই দিতে হবে।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, ঐশীকে কি তাহলে রাজ্যের সিপিএম দিল্লি থেকে এখানে নিয়ে আসবে? সে ব্যাপারে স্পষ্ট কিছু বলছেন না সিপিএম নেতারা। তবে অনেকের মতে, এক্ষুণি এক্ষুণি যদি দিল্লি থেকে ওঁকে বাংলায় নিয়ে এসে ফেলা হয় তাহলে ওখানকার আন্দোলন ধাক্কা খাবে। তেমনটা মনে করেন এসএফআইয়ের সাধারণ সম্পাদক ময়ূখ বিশ্বাসও। তাঁর কথায়, “ঐশীকে এখন জেএনইউয়ের মাটি কামড়ে পড়ে থাকতে হবে।”
বাম রাজনীতির খোঁজখবর রাখা অনেকেই বলেন, যত প্রতিভাবান ছাত্ররা বাম ছাত্র আন্দোলনে যুক্ত হন তাঁদের অধিকাংশই পরবর্তীকালে আর গণআন্দোলনে যুক্ত হন না। খানিকটা স্রোতে ভেসে যাওয়ার মতো করেই রাজনীতির উঠোনের বাইরে চলে যান। কিন্তু ডি রাজাদের সিপিআই কানহাইয়ার ক্ষেত্রে সেটা হতে দেয়নি। সম্ভাবনার কথা বুঝে একেবারে এআইএসএফ নেতা থেকে দলের সর্বভারতীয় কমিটিতে জায়গা করে দেন। এবং সন্দেহ নেই, সারা দেশে বাম আন্দোলনের এই মুহূর্তের তরুণ মুখ বলতে কানহাইয়াই।
বঙ্গ সিপিএমের মাঝের ‘জেনারেশন গ্যাপ’ কাটাতে মরিয়া আলিমুদ্দিন। দু’মাস আগে রাজ্য কমিটিতে যে রদবদল হয় সেখানেও জায়গা পেয়েছেন এসএফআইয়ের রাজ্য সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য। তাঁর বয়স এখন ২৬। এই বয়সী এক তরুণ দলের রাজ্য কমিটিতে জায়গা পাচ্ছেন, একটা সময় এটা ভাবাই যেত না। শুধু তাই নয়, একাধিক জেলায় দেখা যাচ্ছে ছাত্র-যুব নেতাদের জেলা কমিটিতে নেওয়া হচ্ছে। জেলা ও এরিয়া কমিটি থেকে অবসরের বয়সও নির্ধারিত করেছে আলিমুদ্দিন।
তবে বহুদিনের পোড়খাওয়া নেতাদের অনেকেই বলছেন, দুম করে কাউকে কমিটিতে নিয়ে চলে এলে তিনি যোগ্য নেতা হয়ে উঠবেন এই ধারণাটা একেবারেই ভ্রান্ত। তাঁকে আসতে হবে আন্দোলনের মধ্যে দিয়েই। ঘাত-প্রতিঘাত পেরোনোর অভিজ্ঞতা অর্জন করলে তবেই তাঁকে ওই জায়গায় তুলে আনা উচিত। তাঁদের কটাক্ষ, নাহলে দেখা যাবে দলের মধ্যে ঋতব্রতদের মতো ‘এলিমেন্ট’ থিকথিক করছে। তবে দলের নেতাদেরও খোলা মনে তরুণদের জন্য জায়গা ছেড়ে দেওয়া উচিত বলে তাঁদের মত। অনেকের বক্তব্য, এই গোটাটাই নিরন্তর প্রক্রিয়া। আজকে করে কালকে থামিয়ে দিলে চলবে না।