
শেষ আপডেট: 18 March 2020 13:01
সদ্য বিবাহিত দম্পতি[/caption]
বনমহলের এলাকার বাসিন্দা হওয়ার সুবাদে বিশ্বজিৎদের কাছে এই দৃশ্য অনেকটাই পরিচিত কিন্তু শহরের বাসিন্দা মীনা রায় কোনও দিনই এমন দৃশ্য দেখেননি। এমন দৃশ্য দেখে তিনি ভয়ে কাঁটা হয়ে যান। রাত থেকেই বলতে শুরু করে দেন যে এই বাড়িতে তিনি আর থাকবেনই না।
সকাল হতেই বাপের বাড়িতে ফোন করে পুরো ঘটনার কথা জানিয়ে দেন। বাক্স-প্যাঁটরা গুছিয়ে বাড়ি যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হতে থাকেন। রবিন রায় বলেন, “ভোররাতে হাতি এসে তাণ্ডব চালিয়ে যায়। দু’টি ঘর ভেঙে দেয়। অল্পের জন্য আমরা প্রাণে বেঁচে গেছি। বনদফতর টহল দেয় না। কোনও ব্যবস্থা করে না। এর আগে আমার ভাইয়ের বাড়ি ভেঙেছে। ছ’মাস হল ক্ষতিপূরণের ফর্ম জমা দেওয়া হয়েছে কিন্তু এখনও ক্ষতিপূরণ পাওয়া যায়নি।
মীনা রায় বলেন, “হাতির হানার কথা আমি আগে শুনেছি কিন্তু এর আগে কোনওদিন দেখেনি। আমি আর এই বাড়িতে কিছুতেই থাকব না।”
নববধূর কথার প্রেক্ষিতে বিশ্বজিৎ বলেন, “ওকে আমি অনেক বোঝালাম। কিন্তু ও বলছে আমি আর এই বাড়িতে থাকব না। আমরা ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি পাকা বাড়ি তৈরী করে দেবার দাবি করছি। এই এলাকায় টহলদারি বাড়ানোর আবেদন করছি।”
বৈকুণ্ঠপুরের বনাধিকারিক সঞ্জয় দত্ত খবর পেয়ে এসে দেখেন দু’টি ঘরের খুব ক্ষতি হয়েছে। তিনি নববধূর সঙ্গেও কথা বলেন। তাঁকে বোঝান। পরে বলেন, “হাতির তাণ্ডব দেখে ও তার ডাক শুনে ঘাবড়ে গিয়ে তিনি এই বাড়িতে না থাকার কথা বলছেন। আমি নববধূকে বোঝাই যে জঙ্গল লাগোয়া এলাকায় এ সব হয়েই থাকে। এতে ঘাবড়ানোর কিছু নেই। বনদফতর তাঁদের পাশে আছে। নিয়ম অনুযায়ী যা ক্ষতিপূরণ পাওয়ার কথা তা এই পরিবার পাবে।”
আপাতত শ্বশুরবাড়িতেই আছেন নববধূ।