
শেষ আপডেট: 11 August 2020 09:33
জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের খারিজ বেরুবাড়ি ১ নম্বর গ্রামপঞ্চায়েত এলাকার গ্রাম ঘুঘুডাঙা। এই গ্রামেরই বাসিন্দা শুভ্রা। তিনি বর্তমানে জলপাইগুড়ি প্রসন্নদেব মহাবিদ্যালয়ে ইংরেজি অনার্সের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী। বাড়িতে আছেন বাবা, মা ও এক বোন। বাবা ভজন মণ্ডল ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। মা শিখা মণ্ডল গৃহবধূ। বোন পায়েল দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ে।
সংসাকে স্বাচ্ছন্দ্য তাঁদের কোনও দিনই নেই। তবে শুভ্রার ছবি আঁকার আগ্রহ দেখে তার জন্য শিক্ষকের ব্যবস্থা করেছিলেন। তবে আর্থিক কারণেই অষ্টম শ্রেণীর পরে আঁকার শিক্ষক বন্ধ করে দেন। তবে শিল্পীসত্ত্বা তাতে থেমে থাকেনি। রং তুলি না থাকায় গাছের পাতা ব্লেড দিয়ে কেটে বহু মনীষীর ছবি আঁকতে শুরু করেন। পাশাপাশি বাদাম, ডাল প্রভৃতি জিনিষের ওপরে বল পেন দিয়ে ছবি আঁকতে থাকেন। পড়াশোনার ফাঁকে এটাই ছিল তাঁর অবসর বিনোদন।
লকডাউনের সময় তিনি দেখলেন অনেকেই নিজেদের অবসর বিনোদনের ছবি পোস্ট করছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। কেউ নিজের আঁকা ছবি পোস্ট করছেন। কেউ আবার গান গাইছেন। অনেকে নাচও পোস্ট করছেন। শুভ্রার কথায়, “আমিও ভাবলাম আমার ছবি আঁকা কাজে লাগিয়ে যদি একটা রেকর্ড গড়তে পারি তাহলে আমি তা ফেসবুকে শেয়ার করতে পারব। সেই ভাবনা থেকে প্রথমে বাদামের দানার ওপর ছবি আঁকার চেষ্টা করলাম। কিন্তু ঠিক হল না। রাতভর ঘুমতে পারলাম না। তবে তাতে দমে না গিয়ে পরের দিন সকালে ছোলার ডালের ওপর বলপেন দিয়ে ছবি এঁকে ফেললাম।”
তিনি বলেন, “এরপরে রেকর্ড গড়ার লক্ষ্যে সাত মিলিমিটার মাপের ছোলার ডালের দানার ওপর বলপেন দিয়ে এক মিনিটে কবিগুরুর ছবি এঁকে ফেললাম। তার ভিডিও ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডে পাঠানোর পর সেই ভিডিও দেখে তারা আবার লাইভ ভিডিও কলের মাধ্যমে আমার পরীক্ষা নেয়। আমি সফল হই। এরপর আমাকে কনফার্মেশন মেল পাঠায়। একই ভাবে ইন্টারন্যাশনাল বুক অফ রেকর্ড থেকে আমার কাজকে স্বীকৃতি দিয়ে আমাকে সার্টিফিকেট পাঠায়। আগামীতে আমার লক্ষ্য আরও ছোট মাপের শিল্প সৃষ্টি করে গিনেস বুকে নাম তোলা। কিন্তু সে ক্ষেত্রে আমার দরকার হবে অনুবীক্ষণ যন্ত্র। সেটা কেনার সামর্থ্য আমাদের নেই।”
শিখা মণ্ডল বলেন, “মেয়ের সাফল্যে আমরা খুবই গর্বিত। সংসারে অভাবের কারণে ছোট থেকে মেয়েকে তেমন ভাবে রঙ, তুলি, ক্যানভাস – কিছুই কিনে দিতে পারিনি। ও নিজের চেষ্টায় আজ এই জায়গায়। কেউ যদি কিছু দিয়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় তবে ওর লক্ষ্যপূরণের পথ প্রশস্ত হবে।”