দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমফান আছড়ে পড়তে এখনও ১২ ঘণ্টার বেশি সময় বাকি। কিন্তু তার আগে কলকাতা সিপিএমের অভ্যন্তরে তৈরি হওয়া গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে চলল জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠক। এই লকডাউনেও!
কী এমন হল?
সিপিএম সূত্রের খবর, লকডাউনে কলকাতা জেলায় ত্রাণ বিলির কাজে দল কতটা নামতে পারল তাই নিয়ে ছিল বৈঠক। কিন্তু সেখানেই অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগে সরগরম হল সভা।
এমনিতে সারা রাজ্যে জেলায় জেলায় মাজা ভাঙা সংগঠন নিয়ে ত্রাণ বিলির কাজে নামতে দেখা গিয়েছে সিপিএম কর্মীদের। দলের একাধিক গণসংগঠনও কোথাও চাল, ডাল, আলু বিলি করেছে কোথাও আবার রিক্সা চালক থেকে বস্তি অঞ্চলে বিতরণ করা হয়েছে স্যানিটাইজার, মাস্ক! কিন্তু কলকাতায় বিক্ষিপ্ত কিছু জায়গা বাদ দিয়ে সিপিএম কার্যত ঘরে ঢুকে বসেছিল বলে মত দলেরই অনেকের। আর সেখান থেকেই তৈরি হয়েছে লকডাউনের মধ্যেও ম্যারাথন মিটিংয়ের প্রেক্ষাপট।
দক্ষিণ কলকাতার কয়েকটি জায়গা বাদ দিয়ে 'মানুষের পাশে দাঁড়ানো'র কোনও কর্মসূচিই দেখা যায়নি মহানগরে। আর যে জায়গায় কর্মসূচি নিয়েছে সিপিএম সেখানে বেশ জুতসই ভাবেই নিয়েছে। লাগাতার কমিউনিটি কিচেন চালানো থেকে বিনামূল্যে সবজি বাজার চালানো শুরু হয়েছে। দলে উদারপন্থীদের বক্তব্য, এই সময়ে লঙ্গরখানা চালানোর কোনও মানে হয় না। তাঁদের যুক্তি, এই করে ভোট বাড়বে না। পাল্টা কট্টরপন্থীদের যুক্তি, মহামারীর সময়ে মামুষের পাশে দাঁড়ানোর মধ্যে যদি কেউ ভোটের অঙ্ক কষে তাহলে তার থেকে লজ্জাজনক বামপন্থার জন্য আর কিছু হতে পারে না।
সিপিএম সূত্রে জানা যাচ্ছে, যাঁরা কমিউনিটি কিচেন চালানোর ব্যাপারে উদ্যোগী হননি তাঁরাই উদ্যোগীদের বিরুদ্ধে ময়দানে বাহিনী নামিয়ে দিয়েছেন। বলা হচ্ছে, তৃণমূলের এক সাংসদের টাকায় কমিউনিটি কিচেন চলছে দক্ষিণ কলকাতার একটি এলাকায়। সেখানে পরিবর্তনপন্থী বেশ কিছু অভিনেত্রী, সঙ্গীত পরিচালকও টাকা দিয়েছেন বলেও দলের মধ্যে অভিযোগ উঠেছে।
রাজ্য সিপিএমের খোঁজ খবর রাখা অনেকের মতে, এর পিছনে রয়েছে বহু পুরনো কোন্দল। তাঁদের বক্তব্য, এমনিতে কলকাতা সিপিএম আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের নেতাদের তালে তাল মিলিয়ে চলে না। জেলা সম্মেলনেও রাতভর ভোটাভুটি করে মুজফফর আহমেদ ভবনের প্যানেলকে দশ গোল দিয়েছিল পিডিজি ভবন। রাজনৈতিক মহলের বক্তব্য, সেই রেশ ধরে আড়াআড়ি বিভাজন চলছেই।
তবে পর্যবেক্ষকদের অনেকের বক্তব্য, যে দলে মহামারীতে রান্না করা খাবার নিয়েও দলাদলি চলে, তারা সাড়ে তিন দশক সরকার চালানোর পর সাত শতাংশে নামবে সেটাই বাস্তব! এর মধ্যে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই।