আউশগ্রামে এক মাসে হনুমানের হামলায় আহত ৩৫, ঘুমপাড়ানি গুলি করে তাকে ধরলেন বনকর্মীরা
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রামে বন দফতরের চেষ্টায় এক মাস পরে ধরা পড়ল একটি হনুমান। রাস্তা তো বটেই লোকের বাড়ির উঠোনে পর্যন্ত নেমে আসছিল বাঁদরটি। আঁচড়ে কামড়ে দিচ্ছিল। তাতে শঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন গ্রামবাসীরা। সেটি ধরা পড়ায় তাঁরা হ
শেষ আপডেট: 15 May 2020 06:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রামে বন দফতরের চেষ্টায় এক মাস পরে ধরা পড়ল একটি হনুমান। রাস্তা তো বটেই লোকের বাড়ির উঠোনে পর্যন্ত নেমে আসছিল বাঁদরটি। আঁচড়ে কামড়ে দিচ্ছিল। তাতে শঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন গ্রামবাসীরা। সেটি ধরা পড়ায় তাঁরা হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছেন।
লকডাউনের ফলে রাস্তায় এখন লোক কম। সেই সুযোগে অনেক সময়ই লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে বন্যপ্রাণী। তবে আর পাঁচটা ঘটনার সঙ্গে এই ঘটনার পার্থক্য রয়েছে। আউশগ্রামে পাশাপাশি দুই গ্রাম পল্লিশ্রী ও কুড়ুল গ্রামের বাসিন্দারা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন ওই হনুমানের জ্বালায়। রাস্তায়, পুকুরের ধারে, খামার বাড়িতে এমনকি বাড়ির উঠনেও কাউকে একা পেলে চড় থাপ্পড় মারছিল হনুমানটি। কয়েক জনকে সে ইতিমধ্যে কামড়েও দিয়েছে। এলাকার লোক এই বেয়াড়া হনুমানটির নাম রেখেছিলেন ‘গব্বর’।
বন দফতরের পানাগড় রেঞ্জের আধিকারিক তরুণকান্তি বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “স্থানীয়দের থেকে জানতে পেরে আমাদের বনকর্মীরা ওই এলাকায় যান। তারপরে ঘুমপাড়ানি গুলি চালিয়ে হনুমানটিকে ধরা হয়েছে। এখন তার চিকিৎসা চলছে। প্রাণীটি মানসিক ভাবে সুস্থ নয়। তারও চিকিৎসা চলছে। সুস্থ হয়ে গেলে তাকে জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হবে।”

আউশগ্রামের রামনগর অঞ্চলে পাশাপাশি কুড়ুল ও পল্লিশ্রী গ্রাম। কৃষিপ্রধান এই দুই এলাকায় প্রচুর সবজির চাষ হয়। গ্রামবাসীরা জানান সবজির লোভেই প্রতিদিন কয়েকশো হনুমানের দেখা মেলে গ্রামে। হনুমানগুলি ফসলের অনিষ্ট করলেও গ্রামবাসীদের উপরে হামলা করে না। কৃষকরাও তাদের ক্ষতি করেন না। কিন্তু মাসখানেক ধরে সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছিল একটি পুরুষ হনুমান। একের পর এক গ্রামবাসীর ওপর সে হামলা করে চলেছিল। স্থানীয়রা তার মেজাজ দেখে নাম দিয়েছিলেন গব্বর। তাঁদের হিসাবে গত একমাসে অন্তত ৩০-৩৫ জন গব্বরের হামলায় আহত হয়েছেন। তাঁদের অনেককেই বননবগ্রাম ব্লক প্রাথমিক হাসপাতালে প্রতিশেধক নিতে যেতে হচ্ছে।
অন্য উপায় না দেখে গ্রামবাসীরা গব্বরের বিরুদ্ধে বন বিভাগে অভিযোগ জানান। তারপর বন বিভাগের কর্মীরা দু'তিন দিনের চেষ্টায় গব্বরকে ধরে ফেলেন। ঘুমপাড়ানি গুলি করে তাকে কাবু করতে হয়েছে। স্বস্তিতে ফিরেছে গ্রামে।