দ্য ওয়াল ব্যুরো: ডুয়ার্সের সুরেন্দ্রনগর চা বাগানে ভারত সংলগ্ন ভুটানে মিলল ভারতীয় একটি দাঁতাল হাতির দেহ। ভারতের হাতি সীমান্তের ওপারে গিয়ে মারা যাওয়ায় এটি আন্তর্জাতিক বিষয় হয়ে গেছে। দুই দেশের আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন। হাতিটির ময়নাতদন্ত হবে ভুটানে।
বুধবার ভোরে ভারতীয় বনকর্মীরা রুটিন টহল দেওয়ার সময় ওই এলাকা সংলগ্ন ভুটান পাহাড় লাগোয়া সীমান্তের ৪০ নম্বর পিলারের কাছে একটি হাতির দেহ দেখতে পান। স্থানীয় ভাবে ওই জায়গাটি টাইটেনিক পাহাড় নামে পরিচিত। এলাকাটি ভুটানের অংশে পড়ে। বনকর্মীরা দেখেন সেটি পূর্ণ বয়স্ক পুরুষ দাঁতাল হাতি।
প্রথমে তাঁরা অনুমান করেন হাতিটা কোনও ভাবে পাহাড়ে উঠতে গিয়ে পড়ে যায়। তাতেই তার মৃত্যু হয়। পরে পাহাড় থেকে বিশাল হাতিটির পিছলে পড়ার দাগ দেখতে পেয়ে এব্যাপারে তাঁরা নিশ্চিত হন। ডায়নার রেঞ্জ অফিসার প্রণব দাস বলেন, “হাতিটি যে পাহাড়ের উপর থেকে পিছলে পড়ে গিয়েছিল সে প্রমাণ আমরা পেয়েছি। জায়গাটি ডায়না নদীর ওপারে ভুটানের সীমান্তের মধ্যে পড়ছে। আন্তর্জাতিক সীমান্ত হওয়ায় আমরা এসেছি। আমরা বিষয়টার দিকে নজর রাখছি। ভুটানের বনকর্মীরা এসেছেন। সেনাও এসেছে।”
জলপাইগুড়ির জেলা বনাধিকারিক (ডিএফও) নিশা গোস্বামী বলেন, “একটা হাতির মৃতদেহ ডুয়ার্স সংলগ্ন ভুটান থেকে পাওয়া গেছে। আমরা খবর পেয়ে যাচ্ছি ওখানে। ময়না তদন্ত হবে ভুটানে। ময়নাতদন্ত হলেই মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে।”
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে ঘটনাস্থলে সেনা এবং এসএসপি গেছে। অনারারি ওয়াইল্ড লাইফ ওয়ার্ডেন সীমা চৌধুরী গেছেন। ভুটানের আধিকারিকরা সেখানে পৌঁছেছেন।
ভারতীয় বন্যপ্রাণীর ভুটানে যাওয়া নতুন ব্যাপার নয়। এর আগে বহু বার এ দেশের বন্যপ্রাণীরা ভুটানে ঢুকে পড়েছে আবার ফিরেও এসেছে। কোনও কারণে তারা ফিরতে না পারলে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ আলোচনা ও সহযোগিতায় সেই বন্যপ্রাণীকে ভারতে ফিরিয়েও আনা হয়েছে। কিছু দিন আগে চাপড়ামারির জঙ্গল থেকে মাঝে মধ্যেই একটি গণ্ডার ভুটানে চলে যাচ্ছিল। কখনও সেই গণ্ডারটি নিজে ফিরে আসত আবার কখনও সেই ‘বিবাগী’ প্রাণীটিকে ফিরিয়ে আনতে হত। তবে স্মরণকালে পিছলে পড়ে কোনও ভারতীয় বন্যপ্রাণী ভুটানে গিয়ে এভাবে মারা পড়েনি। এমন ভাবে প্রাণীটির মৃত্যু হওয়াতেই সমস্যা। সীমান্তের ওপারে হওয়ায় ভুটানেই তার ময়নাতদন্ত হবে। তবে নিয়ম মেনে ভারতীয় বনকর্মী থেকে সেনা – সকলকেই সীমান্তে উপস্থিত থাকতে হয়েছে।