দ্য ওয়াল ব্যুরো: ব্লক সভাপতি নির্বাচন নিয়ে দলের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে দিলেন সিঙ্গুরের প্রবীণ তৃণমূল বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য। সাফ জানিয়ে দিলেন, সিঙ্গুরের ব্লক সভাপতি যাঁকে করা হয়েছে তাঁকে যদি বদল না করা হয় তাহলে তিনি অন্য দলে যাওয়ার কথা ভাববেন।
গত সপ্তাহের গোড়ার দিকে সাংবাদিক সম্মেলন ডেকেছিলেন শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। হাতে তালিকা নিয়ে জেলা কমিটি ঘোষণা শুরু করেও এক ফোনে তা থামিয়ে দেন তিনি। তারপর রবিবার হুগলি তৃণমূলের জেলা কমিটি ঘোষণা হয়।
তাতে দেখা যায়, সিঙ্গুরের ব্লক সভাপতি মহাদেব দাসকে সরিয়ে গোবিন্দ ধাড়াকে ওই জায়গায় আনা হয়েছে। মহাদেব দাস রবীনবাবুর লোক। অন্যদিকে গোবিন্দবাবু আবার হরিপালের তৃণমূল বিধায়ক বেচারাম মান্নার ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত।
সিঙ্গুরের রাজনীতিতে মাস্টারমশাই বনাম বেচার দ্বন্দ্ব সর্বজনবিদিত। রবীনবাবুর অভিযোগ, যাঁকে সভাপতি করা হয়েছে তিনি দুর্নীতিগ্রস্ত। প্রসঙ্গত, নতুন সভাপতি গোবিন্দ ধাড়া দিয়ারা পঞ্চায়েতের উপপ্রধান। তাঁর বিরুদ্ধে সমবায় সমিতির চাল নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।
সিঙ্গুরের বিধায়কের বক্তব্য, "যাঁরা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নয় তাঁদের বাদ দেওয়া হবে আর যাঁরা দুর্নীতি করেছেন তাঁদের নেতৃত্বে আনা হবে, এ জিনিস মেনে নেওয়া যায় না।" কার্যত হুঁশিয়ারি দিয়েই বর্ষীয়ান বিধায়ক বলেন, "দল যদি সিদ্ধান্তের বদল না করে তাহলে আমাকে অন্য দলে যাওয়ার কথা ভাবতে হবে।"
২০০৮-এর পঞ্চায়েতে থেকে যে সিঙ্গুর হয়ে উঠেছিল তৃণমূলের মাটি, উনিশের লোকসভায় সেখানেই মুখ থুবড়ে পড়েছে শাসকদলের অশ্বমেধ। শুধু হুগলি লোকসভা আসন জেতাই নয়, খাস সিঙ্গুর বিধানসভা থেকে ব্যাপক লিড পেয়েছিলেন বিজেপির লকেট চট্টোপাধ্যায়।
জেলা কমিটি গঠন নিয়ে সেই সিঙ্গুরেই নতুন করে মেঘ দেখতে শুরু করেছে তৃণমূল। পর্যবেক্ষকদের মতে, রবীনবাবু পোড় খাওয়া রাজনীতিক। দীর্ঘদিন মাস্টারি করেছেন। তিনি হয়তো আবহাওয়া বুঝেই এমন মন্তব্য করেছেন। হতে পারে বিজেপির উদ্দেশেও বার্তা দিতে চেয়েছেন তিনি। কারণ একুশের ভোটে তাঁর বয়সের কারণে দল তাঁকে প্রার্থী করবে কিনা ঠিক নেই। এদিকে তাঁর এখনও টিকিট পাওয়ার ষোল আনা ইচ্ছে রয়েছে বলে খবর। তৃণমূল যদি তাঁকে টিকিটও দেয় তাহলে জোড়া চাপ নিয়ে তাঁকে ভোটে লড়তে হবে। একদিকে উনিশের ভোটে বিপুল ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা এবং অন্যদিকে বেচারাম গোষ্ঠীর অন্তর্ঘাতের আশঙ্কা। জেলা রাজনীতির পর্যবেক্ষকদের অনেকে বলছেন, গেরুয়া শিবিরকে বার্তা দিতেই হয়তো অন্য দলে যাওয়ার কথা প্রকাশ্যে বলে দিলেন মাস্টারমশাই।
সিঙ্গুরের কোন্দল প্রকাশ্যে এলেও হুগলির বহু ব্লকে নতুন কমিটি নিয়ে শাসকদলের ভিতরে চাপা কোন্দল শুরু হয়েছে বলে খবর। তার মধ্যে অন্যতম পাণ্ডুয়া। ষোলর ভোটে প্রবল গোষ্ঠী কোন্দলের কারণেই পাণ্ডুয়ার তৃণমূল প্রার্থী তথা প্রাক্তন ফুটবলার রহিম নবিকে হারতে হয়েছিল। ফের সেখানে কোন্দল শুরু হয়েছে।
যদিও জেলা তৃণমূল নেতৃত্বের তরফে বলা হয়েছে, রবীনবাবুর সঙ্গে কথা বলা হবে। সমস্ত কিছু মিটিয়েই ঐক্যবদ্ধ হয়ে দল একুশের ভোট যুদ্ধে নামবে।